খেলাধুলা, ফুটবল

‘চ্যাটজিপিটি’র অতিরিক্ত ব্যবহারে চাকরি হারালেন স্প্যানিশ কোচ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কিছু নয়, তবে সেই প্রযুক্তি যখন কোনো কোচের বিদায়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা বিস্ময় জাগানিয়া বটেই। স্পেনের জাতীয় দল এবং বার্সেলোনার মতো বিশ্বসেরা ক্লাবে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা থাকা রবার্তো মোরেনো এবার এক অদ্ভুত অভিযোগের মুখে পড়েছেন। রাশিয়ার ক্লাব এফসি সোচি থেকে গত ১ সেপ্টেম্বর তাঁর চাকরি হারানোর পেছনে উঠে এসেছে চ্যাটজিপিটির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ক্লাবটির সাবেক মহাপরিচালক আন্দ্রে অরলভ রুশ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মোরেনো তাঁর দৈনন্দিন কোচিংয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করতেন। বিষয়টি কেবল তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; ম্যাচের শুরুর একাদশ নির্বাচন থেকে শুরু করে কখন কোন খেলোয়াড়কে বদলি করা হবে, সবই নির্ধারিত হতো চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই শেষ পর্যন্ত মোরেনোর ক্যারিয়ারে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করে অরলভ জানান, সোচি থেকে খাবারভস্ক সফরের জন্য মোরেনো যে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন, তা ছিল পুরোপুরি এআই-নির্ভর। সেই পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে খেলোয়াড়দের টানা ২৮ ঘণ্টা নির্ঘুম থাকার কথা বলা হয়েছিল। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে মোরেনো সূচিতে সামান্য পরিবর্তন আনলেও মূলত এআই-এর তৈরি করা খসড়াটিই অনুসরণ করেন। যা দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

 

এমনকি নতুন খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রেও মোরেনো নিজের ফুটবলীয় প্রজ্ঞার চেয়ে চ্যাটবটের ওপর বেশি ভরসা করেছিলেন। ক্লাবের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে যখন তিন জন খেলোয়াড়ের তালিকা করা হয়, তখন মোরেনো উইস্কাউটের তথ্য চ্যাটজিপিটিতে ইনপুট দিয়ে কাজাখস্তানের আর্তুর শুশেনাচেভকে বেছে নেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়; শুশেনাচেভ ১৩ ম্যাচে মাত্র ২ গোল করতে সক্ষম হন। অরলভের মতে, এআই একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু মোরেনো একেই তাঁর কাজের প্রধান চালিকাশক্তি বানিয়ে ফেলেছিলেন।

 

চলতি মৌসুমের প্রথম ৭ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়ার পর সোচি কর্তৃপক্ষ মোরেনোকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে লুইস এনরিকের বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে পরিচিত এই কোচ একসময় স্পেনকে ইউরো ২০২০-এর মূল পর্বে তুলেছিলেন। তবে এনরিকের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা এবং পরবর্তীতে রাশিয়ার ক্লাবে এই ‘ডিজিটাল কোচিং’ বিতর্ক মোরেনোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।

 

সূত্র: বিইন স্পোর্টস

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন