আন্তর্জাতিক, ইউরোপ

‘টাকা গাছে ধরে না’ জেলেনস্কিকে খালি হাতেই ফেরালেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইউক্রেন পুনর্গঠনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে কিয়েভের পক্ষ থেকে ৮০ হাজার কোটি ডলারের বিশাল অর্থ সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির এই বিশাল অংকের দাবিকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে অরবান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হাঙ্গেরি এই আর্থিক বোঝা বহন করবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবিকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন, টাকা কোনো গাছে ধরে না। হাঙ্গেরির ইইউ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে ইউক্রেন আগামী ১০ বছরে ৮০ হাজার কোটি ডলার প্রত্যাশা করছে, সেখানে হাঙ্গেরিকে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করতে হবে; কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় হবে কোথা থেকে।

 

হাঙ্গেরি সরকার প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ৩৩০ কোটি ইউরো আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে পশ্চিমা দেশগুলোতে জব্দ করা রুশ সম্পদের লভ্যাংশ থেকে। হাঙ্গেরি তাদের নিজ দেশের সাথে তুলনা করে জানিয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকে ইইউ থেকে তারা নিট সহায়তা পেয়েছে মাত্র ৭৩০ কোটি ইউরো। প্রধানমন্ত্রী অরবান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার লক্ষে ইইউ নেতাদের কোনো পরিকল্পনাকে সমর্থন দেবে না হাঙ্গেরি এবং ইউক্রেনকে তারা নতুন করে কোনো অর্থায়ন করবে না।

 

সরকারি নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনকে ৯ হাজার কোটি ইউরো ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপীয় কাউন্সিল, যা কিয়েভ কখনও পরিশোধ করবে না বলে হাঙ্গেরি মনে করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী সাত বছরের ইইউ বাজেট থেকে ইউক্রেন আরও ৩৬ হাজার কোটি ইউরো পেতে পারে। এছাড়া পুনর্গঠন কাজের জন্য সামরিক ব্যয়ের বাইরে আরও ৮০ হাজার কোটি ডলারের যে ‘বৈশ্বিক প্যাকেজ’ কিয়েভ আশা করছে, তাতে সম্মতি দিলে হাঙ্গেরিকে তার ১.১৬ শতাংশ বা প্রায় ৯২৯ কোটি ডলার বহন করতে হবে। 

 

সূত্র: তাস

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন