আন্তর্জাতিক, আরব

‘প্রতিশ্রুতি দিলে প্রতিশ্রুতি পাবেন’: যুক্তরাষ্ট্রকে সাফ বার্তা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে যাওয়া ইরানের প্রতিনিধিদল জুরিখ ত্যাগ করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কারিগরি আলোচনা ‘প্রতিশ্রুতি বনাম প্রতিশ্রুতি’ রূপরেখার অধীনে অব্যাহত থাকবে বলে সোমবার তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতে নিহত স্কুলশিক্ষার্থী ও অন্যান্য শহীদদের স্মরণে এই প্রতিনিধি দলটির নামকরণ করা হয়েছিল "মিনাব ১৬৮"। দলটি সোমবার জুরিখ বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।


জুরিখ অবস্থানকালে ইরানি প্রতিনিধিদলটি রবিবার সকাল থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ১৮ ঘণ্টা জুড়ে নিবিড় ও ধারাবাহিক আলোচনায় অংশ নেয়। এ সময় কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে একটি ৮০ মিনিটের চতুর্পক্ষীয় সেশনেও অংশ নেয় তারা। বৈঠকে সম্প্রতি ইরানি ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত এবং ইসলামাবাদ-মধ্যস্থতাকৃত সমঝোতার অধীনে ওয়াশিংটনকে তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জোর দাবি জানায় তেহরান।


সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) জানান, এবারের আলোচনাটি সমঝোতা স্মারকের মোট ১৪টি দফার মধ্যে ৪টি নির্দিষ্ট দফার ওপর কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। দফাগুলো হলো— ১, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর ধারা।


১ নম্বর ধারা: লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে অবিলম্বে আগ্রাসন বন্ধের বাধ্যবাধকতা।
৫ নম্বর ধারা: হরমুজ প্রণালিতে ওমানের পাশাপাশি ইরানের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রানজিটের জন্য পরিষেবা ফি পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।
১০ নম্বর ধারা: ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির সক্ষমতার গ্যারান্টি।
১১ নম্বর ধারা: ইরানের অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হয়ে থাকা সম্পদ অবমুক্তকরণ।


মুখপাত্র বাঘাই আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী- একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার পূর্বশর্ত হলো ১, ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর ধারার বাস্তবায়ন শুরু ও তা অব্যাহত রাখা। এছাড়া স্মারকের ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের চারপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।


মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়েছে, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত। এই বিবৃতিতে সমঝোতার ধারাগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া-এর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।


মুখপাত্র জানান, পরবর্তীতে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনাগুলো ইরানের আইনি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদির নেতৃত্বে অব্যাহত থাকবে।


তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমগ্র প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রতিশ্রুতি বনাম প্রতিশ্রুতি। ইরান যেমন অপর পক্ষের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, তেমনি সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আদায়ে নিজেদের সব ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ব্যবহার করবে।


সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন