ভারত

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একাংশের বিরুদ্ধে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি এবং রেড স্যালুট কিষেনজি-র মতো স্লোগান তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে এক সমাবেশে তিনি বলেন, কলকাতার রাস্তায় ‘আজাদি’ স্লোগান দেখা তাঁর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

অধিকারীর প্রশ্ন, ‘কীসের স্বাধীনতা চাইছেন আপনারা? মাদক সেবনের স্বাধীনতা, না কি দেশকে বিভক্ত করতে চাওয়া শক্তির অংশ হওয়ার স্বাধীনতা?’ স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার বিপ্লবীদের অবদান স্মরণ করে তিনি ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, বিনয়-বাদল-দীনেশ এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের নাম উল্লেখ করেন।

 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কাশ্মীর ও প্যালেস্টাইন সংক্রান্ত স্লোগানেরও সমালোচনা করেন তিনি। অধিকারী বলেন, প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার দাবি তোলার আগে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েও সরব হওয়া উচিত। পহেলগামে জঙ্গি হামলা এবং অপারেশন সিঁদুর-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, জঙ্গি হামলার সময়ে যে প্রতিবাদ দেখা যায়নি, সামরিক অভিযানের পরে শান্তির দাবিতে মিছিল হয়েছে।

 

এর আগে ভবানীপুরে রাখিবন্ধনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, যে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ হয়েছে, সেই ভূখণ্ডের স্বাধীনতার দাবিতে কলকাতায় স্লোগান ওঠা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে উদ্বেগজনক বার্তা দেয়।

 

সম্প্রতি শিয়ালদহ থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত একটি মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের পড়ুয়াদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিছিলে যোগ দিতে অস্বীকার করলে কয়েকজনকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও স্বাধীন প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

 

যাদবপুর ক্যাম্পাসে মাওবাদী ভাবধারা ও প্রয়াত মাওবাদী নেতা কিষেনজির সমর্থনে স্লোগানের অভিযোগ তুলেও সরব হন অধিকারী। তাঁর প্রশ্ন, সংবিধান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরোধিতা করা এক ব্যক্তির নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লোগান কেন উঠবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরানোর কথা জানিয়ে তিনি এবিভিপি কর্মীদেরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। ক্যাম্পাস ও হস্টেলে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ড্রোন-সহ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কথাও বলেন। পাশাপাশি হস্টেলে প্রাক্তন ছাত্রদের অননুমোদিতভাবে থাকা বন্ধ করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন তিনি।

 

বন্দে মাতরম নিয়ে আপত্তিরও সমালোচনা করেন অধিকারী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এবং জাতীয় প্রতীকের বিরোধিতাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।

 

নজরুল মঞ্চে ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানে অধিকারী তরুণদের মধ্যে সামরিক শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, স্কুল ও কলেজ স্তরে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বা এনসিসি প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত বা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারকেও দায়ী করেন অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রবিরোধী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনী স্বার্থেও সেই পরিবেশ বজায় রাখা হয়েছিল।

 

তবে অধিকারীর অভিযোগ ও বক্তব্য সম্পর্কে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

 

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

ডিবিসি/এমএনকে

 

আরও পড়ুন