আন্তর্জাতিক, ভারত

‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করলেই শাস্তি, ভারতে কঠোর আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অবমাননা করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে নতুন আইন আনছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ লক্ষ্যে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যসভায় কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি পাস হয়। বিলটি আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হলে বিরোধী সদস্যরা নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভের মধ্যেও স্পিকার অধিবেশন চালিয়ে যান এবং সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে বিলের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করে।

 

বিলের জবাবি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সম্মান ও জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা বহু স্বাধীনতাসংগ্রামী শেষ মুহূর্তে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করেছিলেন। কংগ্রেস কেন ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা করছে তা বোঝা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

 

প্রস্তাবিত এই আইনে জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-সহ ভারতের জাতীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা বা অসম্মানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে এসবের অবমাননার দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকবে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় উত্থাপিত বিলটির মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা উদ্‌যাপনের মধ্যেই এই উদ্যোগ নেয় মোদি সরকার।

 

রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর বিলটি এখন লোকসভায় যাবে। সেখানে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললে এটি আইনে পরিণত হবে।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন