বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ২১তম সভাপতি হিসেবে আগামী চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তামিম ইকবাল। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ক্যাটাগরি-২ (ঢাকার ক্লাব) থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন তিনি। আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সাবেক বোর্ডকে অপসারণের পর গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিরও সভাপতি ছিলেন তামিম।
রাজনৈতিক প্রভাব ও মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনদের অংশগ্রহণের কারণে এবারের একপেশে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ছিল। ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা) এর ১০টি পরিচালক পদের মধ্যে ৭ জনই আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কেবল খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভোটগ্রহণ হয়; যেখানে বরিশাল থেকে ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান এবং খুলনা থেকে শফিকুল আলম ও শান্তনু ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ক্যাটাগরি-২ এর ১২টি পদের জন্য লড়াই করেন ১৬ জন। এই ক্যাটাগরিতে তামিম ইকবাল সর্বোচ্চ ভোট পান এবং মাত্র ১ ভোটের ব্যবধানে সৈয়দ বোরহানুল হোসেনকে পেছনে ফেলে ৪১ ভোট পেয়ে ১২তম পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হন সরকার মাহবুব আহমেদ। এ ছাড়া ক্যাটাগরি-৩ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
বিসিবিতে মন্ত্রী-এমপিদের সন্তানদের উপস্থিতির কারণে জাতীয় সংসদে এই বোর্ডকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ আখ্যা দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল ফলাফল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তামিম ইকবাল বলেন, ট্যাগ দেওয়াটা ব্যক্তিগত মত। তবে ভবিষ্যতে তিনি ‘বাপের দোয়া’ থেকে ‘ক্রিকেটের দোয়া’ অর্জনের চেষ্টা করবেন বলে মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত পরিচালকদের প্রতি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়ে তামিম বলেন, ব্যক্তিগত পরিচয় যা-ই হোক না কেন, সবার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করা এবং একে সামনে এগিয়ে নেওয়া। গত এক-দেড় বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন বোর্ড তা পুনরুদ্ধারে কাজ করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডিবিসি/এফএইচআর