বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বিতর্ক, আর্থিক ক্ষতি, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অনিয়ম ও টুর্নামেন্ট পরিচালনায় বারবার সমালোচনার কারণে বর্তমান বোর্ড আর আগের মতো বিপিএল আয়োজন করতে আগ্রহী নয়।
জানা গেছে, বোর্ডের বেশিরভাগ পরিচালক মনে করছেন, বর্তমান কাঠামোয় বিপিএল চালিয়ে গেলে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি স্থগিত রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন তারা।
সবকিছু ঠিক থাকলে বিপিএলের পরবর্তী আসর আগামী ডিসেম্বরে হওয়ার কথা। তবে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে সেই আসরও অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের চিন্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অপেশাদার আচরণ ও আর্থিক অনিয়মে বারবার সমালোচিত হওয়া টুর্নামেন্টটি নিয়ে নতুন করে ভাবছে বোর্ড।
বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, দুটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমটি হলো, চলতি বছরের বিপিএল স্থগিত রেখে সব সমস্যা দূর করে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ে পরবর্তী মৌসুমে নতুনভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করা। সেক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের ক্ষতি কমাতে বিপিএলের সময় এনসিএল টি-টোয়েন্টি বা অন্য কোনো ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্য বিকল্পটি আরও বড়—‘বিপিএল’ নামটিই বাদ দিয়ে নতুন ব্র্যান্ডে একটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চালু করা। বোর্ডের ধারণা, ‘বিপিএল’ নামটি ইতোমধ্যেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। তাই নতুন নামে নতুনভাবে শুরু করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
বিসিবির এক পরিচালক অভিযোগ করেন, অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের চড়া দামে দলে ভিড়িয়ে পরে পারিশ্রমিক পরিশোধ করে না। শেষ পর্যন্ত সেই দায় এসে পড়ে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর। পাশাপাশি সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া আয়ের বড় অংশই চলে যায় আয়োজনের খরচে।
তবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা এখনো আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ে এবারের আসর আয়োজনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বোর্ড। প্রয়োজন হলে একটি মৌসুম বিরতি দেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত বিপিএলের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি।
ডিবিসি/আরএফই