নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে বেচে যাওয়া স্বামীর আর্তনাদ

‘স্ত্রীর হাতটা ধরে রাখতে চেয়েছিলাম, চোখের সামনেই ভেসে গেল'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা মানুষগুলোর বর্ণনায় ফুটে উঠছে সেই ভয়াল মুহূর্তের এক মর্মান্তিক চিত্র।

কাদার বিশাল এক স্রোত যখন ধেয়ে আসছিল, তখন স্ত্রীকে বাঁচাতে তার হাতটা শক্ত করে ধরেছিলেন ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বরাল। চেষ্টা করেছিলেন তাকে নিয়ে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেওয়ার। কিন্তু প্রকৃতির রুদ্ররোষের কাছে হার মানতে হয় তাকে। চোখের সামনেই কাদার স্রোতে ভেসে যান স্ত্রী। নেপালের চক্র দেব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই বৃদ্ধ আক্ষেপ নিয়ে জানান, তিনি কোনোমতে ছাদে উঠে প্রাণে বাঁচলেও তার স্ত্রী এখন কাদার নিচে চিরতরে হারিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “ওটা কেবল পানি ছিল না, ছিল কাদার বিশাল স্রোত। পালানোর কোনো উপায় ছিল না, শুধু ওপরের দিকে ওঠা ছাড়া।”


মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার আরেক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রসুয়ার ২৪ বছর বয়সী শ্রমিক বিবেক কুমল। একটি নির্মাণাধীন বাড়ির বাইরে গর্ত খোঁড়ার কাজ করছিলেন তিনি। হঠাৎ পানি, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় গর্ত থেকে বেরোলেও তিনিও স্রোতে ভেসে যান। ভাগ্যক্রমে একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে তিনি সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান। আমগাছটি না থাকলে নিশ্চিত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেন বলে জানান কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন এই যুবক।


গত বুধবার বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে এই ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে। নেপালে নিখোঁজ চার শতাধিক মানুষের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে, সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতেও এই ভূমিধসের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সেখানে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, তিব্বত অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে। মূলত এই ভূমিকম্পের পরপরই আকস্মিক এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন শুধুই কাদার আস্তরণ আর স্বজন হারানো মানুষদের কান্না।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন