বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

গ্রেপ্তারের আগেই ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মৃত্যু

Emdadul

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৩:১১:৩৬ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চট্টগ্রামে বসত বাড়িতে ডিবি পুলিশের অভিযানকালে ‘হার্ট অ্যাটাকে’ ওই বাড়ির গৃহকর্তা মো. নাছির উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি)  রাত আড়াইটার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন পশ্চিম শহীদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাছির উদ্দিন  মৃত বজল আহমদের ছেলে।

পরিবারের দাবি, নাছির উদ্দিন অসুস্থতার কথা ডিবি পুলিশকে জানালেও তাতে কর্ণপাত করেননি কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে তাকে জোর করে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় ওষুধ খেতে চাইলেও তাকে সেটার অনুমতি দেননি সেখানে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা। যদিও পরিবারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

মৃতের ছোট ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা পশ্চিম শহীদনগর এলাকায় বসবাস করি। ফটিকছড়িতে আমরা কখনও ছিলাম না। আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আগে কয়েকটি মামলা ছিল। এগুলো সমাধান হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ডিবিসহ ২০ থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্য বাড়িতে আসেন। তারা এসেই আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গরু চুরি মামলা আছে বলে জানান। আমার ভাই তাদের অসুস্থতার কথা জানান। কিন্তু তারা তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।

তিনি আরও বলেন একপর্যায়ে আমার ভাইয়ের মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। তখন তাকে ওষুধও খেতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে যান। তখন আমরা জোর করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু তার আগেই আমার ভাই মারা যান। আমি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করছি।

তিনি বলেন, আমার ভাই মহল্লা কমিটি উপদেষ্টা ছিলেন। সামনে কমিটির নির্বাচন আছে। এটি নিয়ে ষড়যন্ত্র হতে পারে।

এদিকে পুলিশের দাবি, ফটিকছড়ি থানায় দায়ের হওয়া গরু চুরির একটি মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামির জবানবন্দিতে উঠে আসে নাছিরের নাম। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন। একপর্যায়ে জেলা ডিবি পুলিশ নিশ্চিত হয় ওই আসামি নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর এলাকায় থাকেন। তাকে গ্রেপ্তারে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু পুলিশ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও অভিযুক্ত নাছিরের পরিবারের লোকজন ঘরের দরজা খুলছিলেন না। রাত সাড়ে ৩টার দিকে দরজা খোলা হয়। এ সময় বাড়ির লোকজন জানান নাছির অসুস্থ।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, অভিযানের সময় পুলিশ নাছিরের সঙ্গে কথা বলে। অসুস্থ থাকায় তাকে গ্রেপ্তার না করে পরদিন সকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের লোকজনের দাবি তার আগে থেকে হার্টের সমস্যা ছিল। এ কারণে তিনি মারা গেছেন। মৃতের মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন