বুকে-পেটে জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেয়া আবু বকর ও ওমর ফারুক দুই ভাই আলাদা হয়েছে বেশকিছুদিন আগেই। এবার দুই ভাই আলাদা হয়ে বাড়ি ফিরছে। কিছুদিন আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে বকর ও ওমরের অস্ত্রোপচার হয়। বেশ ঘটা করেই বিদায় জানায় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।
দুই শিশুকে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করে মা–বাবার কাছে তুলে দিতে পেরে খুশি চিকিৎসকেরা। আর দুই সন্তানকে আলাদাভাবে কোলে নিতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন বাবা মা। গত ৪ জুলাই বুকে-পেটে জোড়া লাগানো অবস্থায় বকর ও ওমরের জন্ম হয়। তাদের বাবা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আল আমিন শেখ, মা চায়না বেগম। এই দম্পতির আরও চারটি সন্তান আছে।
আল আমিন-চায়না দম্পতি আগেই জেনেছিলেন, এবার যমজ সন্তান হবে। কিন্তু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে তাঁরা বিস্মিত হয়ে যান। দেখতে পান, দুই ছেলের বুক-পেট জোড়া লেগে আছে। স্থানীয় চিকিৎসকেরা অভয় দিয়ে এই দম্পতিকে বলেছিলেন, এখন দেশেই এমন শিশুদের অস্ত্রোপচার করে আলাদা করা যায়। তবে তা বেশ খরচের ব্যাপার।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় দুই সন্তানকে নিয়ে আল আমিন-চায়না দম্পতি ঢাকায় আসেন। গত ৫ জুলাই তাঁরা দুই সন্তানকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করান। দীর্ঘ ৭৮ দিন চিকিৎসার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই শিশুকে আলাদা করেন চিকিৎসকেরা।
বুধবার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসকদের এই সাফল্য ও বকর-ওমরকে বিদায় জানানো উপলক্ষে বিএসএমএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে বকর-ওমরের জটিল অস্ত্রোপচারের বিবরণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিদেশের তুলনায় যে স্বল্প খরচে বিএসএমএমইউতে উন্নত মানের চিকিৎসাসুবিধা আছে, তা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। দুই শিশুর শল্যচিকিৎসার বিবরণ তুলে ধরেন চিকিৎসক দলের প্রধান শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর তিন সহ-উপাচার্য মোশারফ হোসেন, সয়েফ উদ্দিন আহমেদ ও মনিরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অন্য চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসক দলের প্রধান জাহিদ হোসেন বলেন, জিনগত সমস্যা, ট্রমাসহ নানা কারণে এমন জোড়া শিশুর জন্ম হয়ে থাকে। সাধারণত জন্মের ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে এমন শিশুদের অস্ত্রোপচার করা যায়। এই দুই শিশুর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ছিল। তাদের ওজন ছিল কম, মাত্র সাড়ে তিন কেজি। ওজন বাড়ানোর জন্য সময় দিতে হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গসহ রক্তের উপাদান নিয়ে অনেক পরীক্ষা করতে হয়েছে।
বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা তাদের চিকিৎসা করেছেন। ওজন আট কেজি হওয়ার পর অন্যান্য সমস্যার চিকিৎসা শেষে তাঁরা দুই শিশুকে পৃথক করার জন্য অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। বিএসএমএমইউতে জোড়া শিশু পৃথক করার এটাই প্রথম সফল ঘটনা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএসএমএমইউতে নুহা ও নাবা নামের আরও এক জোড়া শিশুর চিকিৎসা চলছে। তারা আরও জটিলভাবে যুক্ত। তাই ধাপে ধাপে তাদের অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। প্রথম দুই ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় ও শেষ ধাপের অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।
ডিবিসি/কেএলডি