আজকাল সুপারফুড বলে একটা কথা চালু হয়েছে। যেসব খাবারের পুষ্টিগুণ সাধারণ খাবারের তুলনায় অনেক বেশি, সেগুলো সুপারফুড। আমলকীর গুণাগুণের কথা বিবেচনা করলে একে সুপারফুডের চেয়েও এগিয়ে রাখা যায়।
শীত পড়তে শুরু করলেই তার প্রভাব পড়ে আমাদের চুলেও। এসময় আমাদের চুল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রুক্ষ আর প্রাণহীন হয়ে যায়। চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এ সময়ে প্রয়োজন স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশি যত্নের।
প্রায় স্বচ্ছ-সবুজ দেখতে টক ও তেতো স্বাদের আমলকি ভিটামিন সির দারুণ উৎস। আমলকীর পলিফেনলস নামক অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবেও পরিচিত। বহুগুণসমৃদ্ধ আমলকী শুধু খাদ্য উপাদান নয়, ত্বক ও চুলের সৌন্দর্যেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে আদিকাল থেকে। স্বাস্থ্যকর ও ঝলমলে চুল পেতে অনেকেই নিয়মিত আমলকী ব্যবহার করেন।
আমলকিতে থাকে ফাইটো-নিউট্রিয়েন্ট, ভিটামিন ও মিনারেলের মতো জরুরি পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে কাজ করে। যে কারণে তা চুল মজবুত রাখার পাশাপাশি কন্ডিশনিংও করে। আমলকিতে থাকে ৮১.২ শতাংশ ময়েশ্চার। যে কারণে রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য এটি বিশেষ কার্যকরী।
আমলকীর রস চুলের ফলিকলগুলো শক্তিশালী করে চুলকে মজবুত করে। দ্রুত চুল বাড়তে সাহায্য করে। এটি মাথার ত্বক ও চুলের টনিক হিসেবেও দারুণ কাজ করে।নিয়মিত আমলকীর রস পান করলে এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সাইড বয়সের আগে চুল পাকা রোধ করবে।
সপ্তাহে দু-তিন দিন আমলকীর রস দিয়ে চুল পরিষ্কার করলে চুলের পাঁকা ভাব কমে। চুল পড়া কমে যায়।
আমলকী মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়াতে ও ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি ব্যবহারে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং চুল দেখতে মসৃণ হয়। আমলকীর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখে। ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং খুশকি দূর করে।
এছাড়াও আমলকির রস খেলে মানসিক চাপ কমে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আমলকীর রস দেহজ এবং পাইলসের সমস্যা দূর করে। ১ গ্লাস দুধের সঙ্গে আমলকী গুঁড়া ও সামান্য চিনি মিশিয়ে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। প্রতিদিন সকালে আমলকী রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ত্বকের কালো দাগ দূর হয়ে যাবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে।
বাজারে আমলকির পাউডার কিনতে পাবেন। দুই চামচের মতো আমলকি পাউডার হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর তার সঙ্গে মেশান এক চা চামচ মধু আর দুই চা চামচ টক দই। ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে সেই মাস্ক চুলে লাগান। এভাবে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন।
আমলকির তেল আপনার চুল ভালো রাখতে কাজ করতে পারে। তেল হাতে নিয়ে মাথার তালু এবং চুলের গোড়ায় ভালোভাবে মালিশ করুন। নিয়মিত এভাবে ব্যবহার করলে চুলের ফলিকল মজবুত হবে, সেইসঙ্গে কমে আসবে চুল পড়ার পরিমাণও। এভাবে তেল মালিশ করলে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল ভালো হয়, যে কারণে চুলের বৃদ্ধিও ভালো হয়। আমলকির অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য খুশকি দূর করতে কাজ করে।