বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

স্ত্রীর মার্কা ফুলকপি, ভোট চাচ্ছেন ট্রাক মার্কার স্বামীর পক্ষে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ২৯শে ডিসেম্বর ২০২৩ ০১:১৪:০৪ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা উপজেলা) আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুলকপি ও ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়ছেন। এরা হলেন- ঝিনাইদহ-১ আসনের স্বতন্ত্র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ট্রাক প্রতীকের নজরুল ইসলাম দুলাল এবং তার স্ত্রী স্বতন্ত্র ও ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী মুনিয়া আফরিন।

স্বামী-স্ত্রী দু’জন দুই প্রতীকের প্রার্থী হলেও মুনিয়া আফরিন গণসংযোগ ও ভোট চাচ্ছেন তার স্বামী নজরুল ইসলাম দুলালের জন্য। এমনই কিছু ছবি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রার্থী হয়ে অপর প্রার্থীর পক্ষে এমন প্রচারণায় সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। ভোটারদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে ভিন্ন মত।

জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনিয়া আফরিন বগুড়া ইউনিয়নের বগুড়াসহ কয়েকটি গ্রামে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা করেছেন। এছাড়াও তিনি নিয়মিত শৈলকুপা পৌর এলাকার হাবিবপুর, ভাটইসহ অন্যান্য এলাকায়ও তার স্বামীর ট্রাক প্রতীকের পোস্টার বিলি করে ভোট
প্রার্থনা করছেন।

ইউনিয়নের হাট-বাজার, চায়ের দোকানসহ সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নজরুল-মুনিয়া
আফরিন দম্পতি। প্রতীক বরাদ্ধের পর ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী মুনিয়া আফরিন গ্রামের
নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে অনেক নারী বসে আছেন আর
মুনিয়া স্বামীর ট্রাক প্রতীকের পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে তাদের কিছু বলছেন। অন্য একটি
ছবিতে দেখা যাচ্ছে মুনিয়া সবার মধ্যে বসে স্বামীর ট্রাক মার্কা পোস্টার হাতে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুলকপি প্রতীকের মুনিয়া আফরিন নিজের জন্য ভোট চাইছেন না এমনটি
বলতে নারাজ। তিনি জানান, আমি নিজের পক্ষে প্রচারণা করছি, সঙ্গে স্বামীর পক্ষেও। শৈলকুপার ভাটই এলাকায় নারীদের কাছে স্বামীর জন্য ভোট চেয়েছি। তবে কোন গ্রাম নামটা মনে করতে পারছি না। তবে প্রচারণা অব্যাহত আছে। কারণ, স্ত্রী হিসেবে আমার একটা দায়িত্ব আছে। আমি নিজের পাশাপাশি স্বামীর জন্যও মানুষের কাছে যাচ্ছি। ভোটাররা যাকে পছন্দ করবেন তাকেই ভোট দেবেন।

তার স্বামী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম দুলাল বলেন, প্রচারণা মোটামুটি ভালোই চলছে। তবে আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর প্রচারণা কেমন চলছে জানতে চাইলে বলেন, আমি জাস্ট
একটু পরে কথা বলব। এরপর তিনি লাইন কেটে দেন।

উপজেলার হাবিবপুর এলাকায় নজরুল ইসলামের পোস্টার নেওয়া ভ্যানচালক এরশাদ বলেন, নিজে প্রার্থী তবুও মুনিয়া আফরিন অপর প্রার্থীর (স্বামী নজরুল ইসলাম দুলাল) পক্ষে পোস্টার দিয়ে বললেন, ভোটটা দিয়েন। কিন্তু বুঝতে পারছি না ভোট আসলে কাকে দেব। তার স্বামীকে না কি তাকে।

শৈলকুপা উপজেলার একাধিক ভোটার বলেন, স্বামী-স্ত্রী দু’জন প্রার্থী হয়েছেন। এখন তো সবখানেই তাদের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আমরা ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত নজরুল ইসলাম
নির্বাচন করবেন এবং তার স্ত্রী মুনিয়া আফরিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন। কিন্তু এখন
দেখি তারা দু’জনাই নির্বাচন করছেন। আসলে কী করতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে সংসদ নির্বাচন করছেন বা এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে কী না তা আমাদের জানার বাইরে। কারণ,
একজন প্রার্থী হয়ে ভোট চাইছেন অন্য জনের জন্য।

এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। ফলে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল। একই আসন থেকে তার স্ত্রী মুনিয়া আফরিনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তখন থেকেই আলোচনায় আসেন এ দম্পতি।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জেলা সভাপতি আমিনুর রহমান টুকু বলেন, সচরাচর একজন
প্রার্থী হয়ে অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া এটা সাধারণত দেখা যায় না। এর মধ্যে রহস্যজনক কিছু থাকতে পারে।

ডিবিসি/আরপিকে

আরও পড়ুন