কুকুরের লেজ ঘি দিয়ে টানলেও কখনও সোজা হয় না; এর কারণ কখনও কি জানতে চেয়েছেন? কুকুরের লেজ সাধারণত অর্ধ গোলাকৃতির মতো গোল হয়। বিশেষ করে লেজের শেষ অংশটুকু! কিন্তু সেটাও কেন হয়? এর পেছনেও কি কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে?
বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন কুকুরের লেজ এ রকম বাঁকা হওয়ার পেছনে হাজার হাজার বছরের বিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রাগৈতিহাসিক যুগে কুকুরের পূর্বপুরুষদের বেশিরভাগ প্রজাতিই তুষার মেরু-প্রদেশে বসবাস করত। এ জন্য তারা লেজ গুটিয়ে রাখত, যাতে শরীরের খালি জায়গা কম থাকে।
মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়ার সময় ওরা নাকের ওপর লেজ রেখে দিত যাতে শরীর উষ্ণ থাকে। লেজ ঘুরিয়ে ঘুমানোর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে স্থায়ী রূপ নেয়। এছাড়া কুকুরদের লেজ সবসময় মাটি থেকে উপরে রাখার একটা প্রচেষ্টা থাকে। দৌড়ানোর সময় বাঘ, সিংহের মতো হালের কাজও করে কুকুরের লেজ। অর্থাৎ কুকুর যখন দৌড়ায়, তখন তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে তার লেজ, হাওয়ার বেগ কাজে লাগাতে, নিজেদের লেজ প্রয়োজন মতো ব্যবহারও করে কুকুরেরা।
কিন্তু বেশিরভাগ কুকুরের লেজ বাঁকা হলেও পৃথিবীতে এমনও অনেক কুকুর রয়েছে, যাদের লেজ গোল নয়। এমনকি লেজ নেই এমন কুকুরও রয়েছে। এখন প্রশ্ন কুকুরদের লেজ সোজা করা যায় কি না?
যে সমস্ত প্রজাতির কুকুরের লেজ বাঁকা, তাদের লেজ স্বাভাবিকভাবে সোজা করা যায় না। এখন অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিমভাবে কেউ যদি তা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই করা যায়। তবে এমন কাজ নিঃসন্দেহে অমানবিক। কিছু বিশেষ প্রজাতির কুকুর আছে যাদের লেজ সোজা। এই জাতীয় কুকুরগুলোর লেজ স্বাভাবিকভাবেই সোজা হয়। এটা কোনো অসুখের লক্ষণ নয়।
পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির কুকুর আছে যাদের লেজ নেই। ফ্রেঞ্চ বুলডগ, বস্টন টেরিয়ার ইত্যাদি প্রজাতি এদের মধ্যে পড়ে। এমন কুকুরও আছে যেগুলোর লেজ দেখা যায় না। আপনার কুকুরের লেজ স্বাভাবিকভাবে বাঁকা হলে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটি অস্বাভাবিকভাবে বাঁকা হলে বা কোনো কারণে বাঁকা হতে শুরু করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কুকুর মেরুদণ্ডী প্রাণী। এ কারণে তাদের লেজ তাদের মেরুদণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী কুকুরের লেজের হাড় তার মেরুদণ্ডে পেরেকের মতো আটকে থাকে বলে মনে করা হয়।
ডিবিসি/আরপিকে