কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭ দিনের নবজাতককে ৯ তলা ভবন থেকে ফেলে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন মা তিসা আক্তার।
বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে ভৈরব থানা পুলিশ আসামিকে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুটিসিয়াল ম্যাজ্রিস্ট্রেট কিশোর দত্তের আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামির ১৬৪ ধারা জবানবন্দি শুনে তিশা আক্তার কে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।
স্বজন ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে উসমান গণির পরিবারের সবাই কে ঘুমে রেখে মা তিশা আক্তার রাত ৪টার দিকে ভবনের ৯ তলার বাতরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয় ৭ দিনের নবজাতক তাসনিদ এহসান কে। পরে নিজেই চিৎকার করতে থাকে তাসনিদ কে পাত্তয়া যাচ্ছে না বলে। রাতেই অনেক খুঁজাখুঁজি করা হয়। ভোরে বাড়ির কাজের মেয়ে জানালা দিয়ে ভবনের পিছনে ঝোঁপঝাড়ে তাসনিদের লাশ পরে থাকতে দেখতে পাই। পরে পুলিশ কে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ওই দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবা ডাক্তার উসমান গণি, মা তিসা আক্তার, মায়ের বান্ধবী সুমাইয়া আক্তার ও দুই কাজের মেয়ে কে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মা তিসা আক্তার নিজেই নবজাতক তাসনিদ কে ৯ তলা ভবন থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করে। এই ঘটনায় তিসার স্বামী ডাক্তার উসমান গণি বাদী হয়ে স্ত্রী তিসার বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা সচেষ্ট ছিলাম রহস্য উদঘাটনে। অবশেষে মা তিসা আক্তার নিজে দায় স্বীকার করে কোর্টে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
ডিবিসি/এনএম