বাংলাদেশ, জাতীয়, রাজনীতি, আইন ও কানুন

নিষিদ্ধ হলো জামায়াত-শিবির

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

বৃহঃস্পতিবার ১লা আগস্ট ২০২৪ ০৪:০২:৫০ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চলমান বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকারের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনার দোষী সাব্যস্ত করে সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হলো দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে।

বৃহস্পতিবার (১লা আগস্ট)স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব জাহাংগীর আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,  যেহেতু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত কয়েকটি মামলার রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (পূর্বনাম জামায়াত-ই- ইসলামী/জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ) এবং তার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (পূর্বনাম ইসলামী ছাত্রসংঘ)-কে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী হিসেবে গণ্য করা হইয়াছে; এবং যেহেতু, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ রিট পিটিশন নং-৬৩০/২০০৯-এ ১ আগস্ট ২০১৩ তারিখের প্রদত্ত রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত/প্রাপ্ত নিবন্ধন বাতিল করিয়া দিয়াছে এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগের ওই রায়কে বহাল রাখিয়াছে; এবং যেহেতু, সরকারের নিকট যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রহিয়াছে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে,  যেহেতু সরকার বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সব অঙ্গ সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সহিত জড়িত রহিয়াছে সেহেতু, সরকার, সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ তার সব অঙ্গ সংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করিল এবং উক্ত আইনের তফসিল-২ এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ তার সব অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসেবে তালিকাভুক্ত করিল। ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

এর আগে এ দলকে ১৯৭২ সালে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহারের’ কারণে। জিয়াউর রহমানের আমলে রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাওয়া জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবি সেই নব্বইয়ের দশকেই সামনে এসেছিল শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময় তা আরো জোরালো হয়।

প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময়ে একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি অপূর্ণই থেকে গেছে এতদিন। আদালতের রায়ে নিবন্ধন খুইয়ে নির্বাচন করার পথ বন্ধ হলেও দল হিসেবে জামায়াত ছিল সক্রিয়, গত নির্বাচনের আগেও দলীয়ভাবে তাদের মিছিল সমাবেশ করতে দেখা গেছে।

অবশেষে এ বছর জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ব্যবহার করে ব্যাপক সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সোমবার রাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় দলের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এরপর মঙ্গলবার (৩০শে জুলাই) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতকে কীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত বুধবারের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে। আর সেটা করা হবে সরকারের নির্বাহী আদেশে।

 

যেভাবে নিষিদ্ধ

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সামনে দুটি উপায় ছিল- এক. আদালতে আবেদন করার মাধ্যমে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা, দুই. সরকারের নির্বাহী আদেশ প্রয়োগ করা।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার আমির গোলাম আযমকে ২০১৩ সালে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতে ইসলামীকে ‘ক্রিমিনাল দল’ আখ্যায়িত করেছিল আদালত। ওই বছরই অগাস্টে গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেখানে একাত্তরের ভূমিকার জন্য দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণারও আবেদন করা হয়।

কিন্তু ওই বছর অক্টোবরে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে মারা যান জামায়াতগুরু গোলাম আযম। ফলে সুপ্রিম কোর্টে ওই আপিল কার্যকারিতা হারায়, জামায়াত নিষিদ্ধের আবেদনটিও আরে এগোয়নি। ২০১৬ সালে তখনকার খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছিলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘এ বছরের মধ্যেই’ বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে। ওই বছরই বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করা এখন ‘সময়ের ব্যাপার’। কিন্তু ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, আদালতে মামলা থাকার কারণে জামায়াতে ইসলামীকে সরকার নিষিদ্ধ করতে পারছে না।

তরীকত ফেডারেশনের নেতা রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ কয়েকজনের রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০১৩ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করে। সংবিধানের সঙ্গে জামায়াতের গঠনতন্ত্র ‘সাংঘর্ষিক’ হওয়ায় হাইকোর্ট ওই রায় দেন।

এতে দলীয়ভাবে জামায়াতের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়। গতবছর সর্বোচ্চ আদালতেও হাইকোর্টের ওই রায় বহাল থাকে। রেজাউল হক চাঁদপুরী জামায়াতে ইসলামীর মিছিল-সমাবেশসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েও গত বছর আপিল বিভাগে একটি আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে গত নভেম্বরে আপিল বিভাগ জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে চূড়ান্ত রায় দিয়ে দিলে ওই রিট মামলা আর এগোয়নি।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের জন্য দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারেরও উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেজন্য আইন সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি আটকে থাকে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও ঝুলে থাকে।

সোমবার রাতে ১৪ দলের বৈঠকের পর জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি হঠাৎ করেই গতি পায়। ওই বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, তারা জোটগতভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

এক নজরে জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর সূচনা হয় উপমহাদেশের বিতর্কিত ধর্মীয় রাজনীতিক আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে ১৯৪১ সালের ২৬ অগাস্ট, তখন এর নাম ছিল জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। সেখানেও নিষিদ্ধ হয়েছিল এ দল।

দলটি একাধিকবার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উসকানির অভিযোগে প্রথমবার পাকিস্তানে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয় ১৯৫৯ সালে। এরপর ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান প্রণীত মুসলিম পরিবার আইনের বিরোধিতার কারণে ১৯৬৪ সালের ৪ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ড আবারো নিষিদ্ধ হয়। তবে পরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

পাকিস্তানের সামরিক আদালতের রায়ে মওদুদীর মৃত্যুদণ্ড-ও হয়েছিল। তবে তাকে শেষ পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলতে হয়নি। দণ্ড মওকুফ করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন ১১ দফাসহ বিভিন্ন দাবির বিরোধিতা করে জামায়াত। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করতে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস্ নামে বিভিন্ন দল গঠন করে জামায়াত ও এর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ। সে সময় তারা সারা দেশে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের মত যুদ্ধাপরাধ ঘটায়। আদালতে ঘোষিত যুদ্ধাপরাধ মামলার বিভিন্ন রায়ে বিষয়গুলো উঠে আসে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি, হত্যাকাণ্ডে সায় ও সহযোগিতার দায়ে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার আমির গোলাম আযমকে টানা ৯০ বছর অথবা আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলটির পাঁচ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ‘ক্রিমিনাল দল’ আখ্যায়িত করে একটি রায়ে বলা হয়, দেশের কোনো সংস্থার শীর্ষ পদে স্বাধীনতাবিরোধীদের থাকা উচিত নয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও জিয়াউর রহমানের সরকার আবার জামায়াতকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেয়। সেই সুযোগে গোলাম আযম ১৯৭৮ সালে দেশে ফিরে দলের আমিরের দায়িত্ব নেন। সামরিক শাসক এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসন পায় এবং সরকার গঠনে বিএনপিকে সমর্থন দেয়। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আসন কমে তিনটি হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত পায় ১৭ আসন। চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পান জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা।

একাত্তরে ন্যক্কারজনক ভূমিকার পরও খালেদা জিয়ার চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়াকে লাখো শহীদের প্রতি ‘চপেটাঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় যুদ্ধাপরাধের এক মামলার রায়ে। সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দুটি আসন পায় জামায়াতে ইসলামী। এরপর তারা আর দলীয়ভাবে ভোট করতে পারেনি।

সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক হওয়ায় ২০১৩ সালের ১ অগাস্ট হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ‘অবৈধ ও বাতিল’ ঘোষণা করে রায় দেয়। গতবছর সর্বোচ্চ আদালতেও হাইকোর্টের ওই রায় বহাল থাকে। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় জোটবদ্ধ হয় বিএনপি ও জামায়াত। এর ১৪ বছর পর ২০১৩ সালে একটি ইফতার পার্টিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম।

১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় জোটবদ্ধ হয় বিএনপি ও জামায়াত। এর ১৪ বছর পর ২০১৩ সালে একটি ইফতার পার্টিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম।

নিবন্ধন বাতিলের পর জামায়াত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য বিবেচিত হয়নি। তবে ২০১৯ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটসঙ্গী বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন জামায়াতের কয়েকজন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিতে না পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জামায়াত নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

ব্যক্তির অপরাধের বিচার হলেও দল হিসেবে জামায়াতের বিচারের দাবি ২০১৩ সালেই গণজাগরণ মঞ্চ থেকে তোলা হয়েছিল। গোলাম আযমের মামলার রায়ে আদালত জামায়াতকে ‘ক্রিমিনাল দল’ আখ্যায়িত করার পর দাবিটি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

 

ডিবিসি/এসএসএস

আরও পড়ুন