আন্তর্জাতিক, এশিয়া

চীনকে ভয় পায় না তাইওয়ান, বার্ষিক মহড়ায় দেখাচ্ছে সামরিক সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

শনিবার ১২ই জুলাই ২০২৫ ০৪:৩৬:২১ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় বার্ষিক সামরিক মহড়া 'হান কুয়াং'-এর অংশ হিসেবে তাইচুং শহরের রাস্তায় দেখা গেছে আমেরিকার তৈরি হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (HIMARS)। কিন্তু এবারের মহড়ার মূল লক্ষ্য শুধু এই অস্ত্রের শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং একে শত্রুর চোখ থেকে লুকিয়ে রাখার কৌশল রপ্ত করা। তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল চেন লিয়ান-জিয়া রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো, শত্রুপক্ষের আকাশপথে চালানো নজরদারি, স্যাটেলাইট, এমনকি দেশের অভ্যন্তরে থাকা গুপ্তচরদের চোখ এড়িয়ে হাইমার্সগুলোকে কীভাবে গোপন রাখা যায় তা অনুশীলন করা।

তার মতে, এই অস্ত্রগুলোর কার্যকারিতা তখনই সবচেয়ে বেশি হবে, যখন এগুলোকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রেখে, সঠিক সময়ে, অপ্রত্যাশিত স্থান থেকে নির্ভুলভাবে হামলা চালানো যাবে। এই 'হাইড অ্যান্ড সিক' বা লুকোচুরির কৌশল তাইওয়ানের মতো একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চীনের মতো বিশাল সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করার পরিবর্তে, আকস্মিক ও গোপন হামলা চালিয়ে শত্রুকে বিভ্রান্ত ও পর্যুদস্ত করাই হবে তাদের অন্যতম প্রধান রণকৌশল। তাই এই মহড়াটি এখন এক স্নায়ুক্ষয়ী বুদ্ধির লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

 

 

তাইওয়ানের এই ব্যাপক ও কৌশলগত মহড়াকে বরাবরই তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে আসছে চীন। এ সপ্তাহেই চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় 'হান কুয়াং' মহড়াকে "ধোঁকাবাজি এবং আত্ম-প্রবঞ্চনামূলক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়" বলে অভিহিত করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আমেরিকা ও তাইওয়ানের মধ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক সহযোগিতার তারা তীব্র বিরোধী। চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ হিসেবে দেখে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার হুমকি দিয়ে আসছে।

 

কিন্তু চীনের এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপকে উপেক্ষা করে তাইওয়ান নিজেদের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছে না। হাইমার্সের মতো নিখুঁত ও দূরপাল্লার অস্ত্রকে নিজেদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেটিকে গোপন রাখার মতো জটিল কৌশল অনুশীলন করা প্রমাণ করে, তারা চীনের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে। একদিকে চীনের মৌখিক তাচ্ছিল্য, অন্যদিকে তাইওয়ানের নীরবে নিজেদেরকে আরও শক্তিশালী করে তোলার এই প্রতিযোগিতা তাইওয়ান প্রণালীতে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি করেছে, যার ওপর নজর রাখছে পুরো বিশ্ব। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

 

ডিবিসি/জেআরওয়াই
 

আরও পড়ুন