বাংলাদেশ, অর্থনীতি

অর্থনীতির কোনো সূত্রই কাজে আসছে না দেশে

ডিবিসি নিউজ ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ১৩ই অক্টোবর ২০২৫ ১০:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দেশের অর্থনীতিতে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে, যেখানে অর্থনীতির কোনো সূত্রই যেন কাজে আসছে না। একদিকে প্রবাসী আয় এবং রপ্তানিতে ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি এবং মূলধনী যন্ত্রের আমদানি হ্রাস। সব মিলিয়ে উৎপাদনশীল খাতে নতুন বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান থমকে আছে, যার ফলে বেকারত্ব বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক চাপের মধ্যেও দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয় হয়েছে ১২.৩১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১১.৬৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৫.৬৪ শতাংশ বেশি। যদিও একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় ছিল ৩.৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৩.৮০ বিলিয়ন ডলার।

 

একইভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫৮ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এই রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ওপর ভর করেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভ এখন সাড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং বিপিএম সিক্স হিসাবে তা সাড়ে ২৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

 

তবে রিজার্ভে স্বস্তি ফিরলেও দেশের বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬.৩৫ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ সময়ে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়লেও উৎপাদনশীল খাতের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে গতি নেই। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য এলসি খোলা হয়েছে মাত্র ২৬ কোটি ৪১ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ০.৭২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি খোলা ১১.৬২ শতাংশ কমে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির জন্য ব্যাংক খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া সংস্কার পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে দায়ী করছেন। এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ এবং বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উভয়েই বিনিয়োগের স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংকট এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (রেপিড) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান উভয়েই মনে করেন, এই চড়া মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আয়কে গ্রাস করছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশে কিছুটা কমলেও সেপ্টেম্বরে তা আবার বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন