আন্তর্জাতিক, এশিয়া

গাজায় পুলিশ বাহিনী গড়তে শত শত ফিলিস্তিনিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে মিসরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

রবিবার ৩০শে নভেম্বর ২০২৫ ০৩:৪৮:৩১ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মিসরের তত্ত্বাবধানে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শত শত ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় একটি দক্ষ ও ঐক্যবদ্ধ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা।

বার্তা সংস্থা এএফপি একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আরেক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। 

 

গণমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি এবং ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তফার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গাজার জন্য পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য প্রস্তুত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত মার্চে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্যের প্রথম দলটি কায়রোতে তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে। এরপর সেপ্টেম্বর মাস থেকে দুই মাস মেয়াদি নতুন একটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, যেখানে আরও কয়েকশ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণার্থী এই পুলিশ সদস্যদের সবাই গাজার বাসিন্দা এবং তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করবে পশ্চিম তীরের রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

 

প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ২৬ বছর বয়সী এক পুলিশ সদস্য জানান, এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চান এবং দেশ ও জনগণের সেবা করতে উদগ্রীব। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বাহিনী হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন, বিদেশি প্রভাবমুক্ত এবং কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি অনুগত। প্রশিক্ষণে আধুনিক সীমান্ত নজরদারি ও উন্নত মানের অপারেশনাল কৌশলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা বা পিএলও-র ভূমিকা এবং একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্ব সম্পর্কেও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই কার্যক্রম মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করার দায়িত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াদ হাব আল-রীহকে।

 

এর আগে গত বছর মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ফাতাহসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী গাজায় প্রায় ১০ হাজার সদস্যের একটি পুলিশ বাহিনী গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর অনুমোদিত একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির অধীনে এই বাহিনী পরিচালিত হবে। হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোচনায় যে সমঝোতা হয়েছে, তার প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। হামাস আরও জানিয়েছে, তারা গাজার শাসনক্ষমতায় থাকতে চায় না, তবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরেও যাবে না। এমনকি সর্বসম্মত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা নিজেদের কিছু অস্ত্র সমর্পণের বিষয়েও নমনীয়তা দেখিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই উদ্যোগের গুরুত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় এমন একটি বাহিনীর উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নও পশ্চিম তীরের আদলে গাজায় সর্বোচ্চ তিন হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০০৬ সাল থেকে ইইউ এ ধরনের মিশন পরিচালনা করে আসছে, যার বার্ষিক বাজেট প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ইউরো। তবে এখনো অনেক বিষয় আলোচনার টেবিলে চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন