সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় মুখ এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আল-আমিন (৪০) ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
গত শুক্রবার (২৮শে নভেম্বর) সকালে কনটেন্ট তৈরির সময় পেট্রলের আগুনে তার শরীরের একাংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বর্তমানে রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে গৌরীপুর উপজেলার দানিয়াপুর ইটখলার মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি কৃত্রিম চৌবাচ্চায় মাচা তৈরি করে অভিনব এক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা করেন আল-আমিন। ভিডিওর বিষয়বস্তু ছিল চৌবাচ্চায় নেমে আগুন পোহাতে পোহাতে গোসল করা। দৃশ্যটিকে বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে তিনি পানিতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপত্তি। নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত পেট্রল ব্যবহারের ফলে আগুনের মাত্রা মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচুতে উঠে যায়। আগুনের এই তীব্র তাপে আল-আমিনের শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আগুন বেপরোয়াভাবে জ্বলে ওঠার সাথে সাথেই আল-আমিন নিজেকে রক্ষা করতে পানিতে ঝাঁপ দেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তিনি নিজেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেননি। আল-আমিনের সহকারী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই দুর্ঘটনায় তার শরীরের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন।
এ বিষয়ে কনটেন্ট ধারাভাষ্যকার আজাদ হোসেন জনি জানান, আল-আমিনের অবস্থা বর্তমানে বেশ সংকটপূর্ণ। তিনি বারডেম হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে আল-আমিনের সহকারী সুবল চন্দ্র অধিকারী এবং তার পরিবার এই কঠিন সময়ে আল-আমিনের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
জনপ্রিয় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের এমন দুর্ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে সচেতনতার বিষয়টিও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।
ডিবিসি/এএমটি