গাজা সংঘাতের পর বিশ্বজুড়ে নিজেদের ভাবমূর্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা আগামী অর্থবর্ষের জন্য তাদের 'পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি' বা প্রচারণামূলক কার্যক্রমে রেকর্ড ২.৩৫ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৭২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি) বাজেট অনুমোদন করেছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'মিথ্যা তথ্য ছড়ানো' এবং জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগের মধ্যেই এই বিপুল বরাদ্দ, যা গত বছরের বরাদ্দের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ এবং পূর্ববর্তী বছরগুলোর গড় বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি।
এই বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে ইসরায়েল জনমতকে প্রভাবিত করার এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের পদক্ষেপকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’র গত রবিবার জেরুসালেমে একটি সম্মেলনে তাঁর মন্ত্রণালয়ে একটি নতুন 'পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি বিভাগ' খোলার ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপকে তিনি একটি ‘তাৎপর্যপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে জোর দিয়ে বলেন যে, ‘যখন জনমত ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানে চলে যায়,’ তখন তা ‘তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে।’
সা'র আরও ঘোষণা করেন, ‘জনসচেতনতার লড়াই এবং বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের ভাবমূর্তি প্রচারের জন্য ২.৩৫ বিলিয়ন শেকেলের বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। জনসচেতনতার লড়াই জাতীয় নিরাপত্তার অংশ এই ধারণাটিই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল।’ এই বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, ইসরায়েল প্রচারণাকে এখন তার সামরিক নিরাপত্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
গত বছর, ইসরায়েল জন-কূটনীতির জন্য প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল। নতুন এই বাজেট বৃদ্ধির ফলে জনমতকে নিজেদের পক্ষে আনার জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টা বহুগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েলের গাজায় চালানো ব্যাপক সামরিক অভিযানের পর দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংঘাতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, প্রায় ৭০,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং উপত্যকার প্রায় ৯০% মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, ইসরায়েল একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে, যা তাদের এই ব্যাপক প্রচার বাজেট বাড়ানোর প্রধান কারণ।
এই বাজেট খসড়াটি এখন নেসেটে প্রথম পূর্ণাঙ্গ পাঠের জন্য যাবে এবং এটিকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে পাশ করাতে হবে।
সূত্র: আরটি
ডিবিসি/এনএসএফ