ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পারিবারিক বিরোধের জেরে আবু ছায়েদ (৫৩) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের সৎ ছেলে মো. খোকনসহ (২০) তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আদাঐর এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুই আসামি হলেন- শ্যালক ফারুক মিয়া (৪০) ও দুলাল মিয়া (৫৮)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ জুন রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আবু ছায়েদ। পরদিন ৪ জুন নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চান্দির ভিটি এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রুবেল মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশ দীর্ঘ ছয় মাস তদন্ত চালিয়েও জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে ন্যস্ত করা হয়। পরে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আবু ছায়েদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমকে বিয়ে করার পর থেকেই পারিবারিকভাবে বিরোধ চলছিল। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বের মারধরের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩ জুন রাত আনুমানিক ১টার দিকে সৎ ছেলে মো. খোকন তার পিতাকে সেচ পাম্পের ঘর থেকে ডেকে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অন্যান্য আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে নৌকায় করে সোনাই নদী সংলগ্ন একটি ফসলি জমিতে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিবিসি/আরএসএল