বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

রাজশাহীতে থাপ্পড় খেয়ে কলেজ শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা

রাজশাহী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি সরকারি কলেজে ইসলামী জলসা ও মসজিদের অনুদান চাওয়াকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। বিএনপি নেতার সঙ্গে এক কলেজ শিক্ষিকার হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি সরকারি কলেজে ইসলামী জলসা ও মসজিদের অনুদান চাওয়াকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। বিএনপি নেতার সঙ্গে এক কলেজ শিক্ষিকার হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)  উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. এজদার ও ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে যান। সেখানে তারা স্থানীয় মসজিদের উন্নয়ন ও জলসার দাওয়াত কার্ড দিয়ে অনুদান দাবি করেন। এ সময় কথাবার্তার দৃশ্য নিজ মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে শুরু করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন। 

 

বিএনপি নেতারা ভিডিও করতে নিষেধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন বিএনপি নেতা আফাজ উদ্দিনকে নিজের বাড়ির প্রাক্তন গৃহকর্মী দাবি করে চড় মারেন। এর পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে আকবর আলী নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে ওই শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করেন এবং তাকে "পতিতা" বলে অপদস্থ করেন। ভিডিওতে তাকে ওই শিক্ষিকার চুল ধরে টেবিলে চেপে ধরে মারধর করতেও দেখা যায়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর আকবর আলীর নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী পুনরায় লাঠিসোঁটা নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন। হামলাকারীরা ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালীন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কলেজটিতে ভাঙচুর চালায় এবং অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনসহ শিক্ষকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় রক্তাক্ত জখম হওয়া অধ্যক্ষ ও ওই শিক্ষিকাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

 

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জলসার দাওয়াত দিতে গিয়ে বাকবিতণ্ডা থেকে মারামারির সূত্রপাত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন