ফরিদপুরের মহাসড়কগুলোতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালকের নাম ভাঙিয়ে শ্রমিক কল্যাণের নামে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবহন শ্রমিকদের নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তবে বিআরটিএ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সড়ক থেকে এ ধরনের চাঁদা তোলার কোনো অনুমতি বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা অতিক্রম করার সময় দূরপাল্লার প্রতিটি যাত্রীবাহী বাস থেকে দুটি পৃথক সংগঠনের নামে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়। বাসগুলো ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় কতিপয় শ্রমিক লাল পতাকা উড়িয়ে গাড়ি থামিয়ে প্রতি বাস থেকে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা আদায় করে রসিদ ধরিয়ে দিচ্ছেন।
আকস্মিকভাবে সড়কে এভাবে প্রকাশ্যে টাকা তোলার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ বা পরিবেশ অবনতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টাকা উত্তোলনকারীদের দাবি, ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কাস শ্রমিক ইউনিয়ন (১০৫৫) এবং ফরিদপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের নির্দেশেই এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কাস শ্রমিক ইউনিয়ন (১০৫৫)-এর সভাপতি ইয়াসিন মোল্লা দাবি করেন, বিআরটিএ কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য এই টাকা তোলা হচ্ছে।
তবে এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করেছেন বিআরটিএ ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘মহাসড়কে চাঁদা তোলার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কেউ যদি নাম ভাঙিয়ে থাকে, সেটা তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার।’
ঘটনাটি নিয়ে ফরিদপুর জেলা বাস মালিক সমিতির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং সড়কে চাঁদা তোলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পরপরই তা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবারই চাঁদা তোলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও, তা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবারও একই পয়েন্ট থেকে দেদারছে টাকা তুলতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।
ডিবিসি/এমএনকে