টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আল আমিনকে গণপিটুনি দিয়েছেন কয়েকজন ক্ষিপ্ত অভিভাবক। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসাটিতে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসের শুরুতে ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে এক শিক্ষার্থী (১০) ভর্তি হয়। আল আমিন ওই শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ডেকে নেন। এক পর্যায়ে কৌশলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মারবে বলে হুমকী দেন ওই শিক্ষক। এর একদিন পর তিনি শিশুটিকে আবারও বলাৎকার করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে প্রায় এক মাস চলতে থাকে।
এরই মধ্যে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা তাকে বাড়িতে এনে প্রথমে মির্জাপুরের জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে গ্যাস্টোলিভারের চিকিৎসা দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে শিশুটি কিছুটা সুস্থ হলে মাদ্রাসায় রেখে যান।
এরপর সে আবারও অসুস্থ হলে ঢাকাসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। কিছুটা সুস্থ হলে তিনি পুনরায় তাকে মাদ্রাসা রেখে যান। সর্বশেষ বাচ্চাটি এক সপ্তাহ আগে তার মাকে মুঠোফোনে কল করে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে বলে।
শিশুটির মা জানান, হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমাকে বলেছেন, ছেলেরে তারাতারি ওই মাদ্রাসা থেকে সরান না হইলে বাঁচাতে পারবেন না।’ তিনি ঘটনার বিচার চান।
এদিকে শুক্রবার (১১ সেপ্টম্বর) সকালে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে ও অধ্যক্ষকে জানাতে ওই শিশুটির মা ও নানা মাদ্রাসায় আসেন। এ সময় অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পাশে থাকা অভিভাবকেরাও বিষয়টি জানতে পারেন। একই সময় অভিযুক্ত আল আমিন এগিয়ে এসে তিনি পাশে থাকা কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এসময় কয়েকজন অভিভাবক ক্ষিপ্ত হয়ে আল আমিনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত আল আমিন ও অধ্যক্ষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিভাবক নাজিম উদ্দিন ও স্থানীয় আবু সালেহ মোহাম্মদ সেলিম জানান, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় অধ্যক্ষ অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার গেইট আটকে দিতে বলেন। তিনি তাদের উপর লাঠিসোঠা নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। অধ্যক্ষ তাদের মেরে ফেলারও নির্দেশ দেন। খবর পেয়ে আরও অভিভাবক ও স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করবেন। ওই মামলায় আল আমিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন