গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দুই সন্তানের জননী ও কলেজছাত্রী শাহিনা আক্তারকে (২২) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামের (৩৫) বিরুদ্ধে। হাসপাতালে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে মোরসেলিম আকাশ সিয়ামের সঙ্গে সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের শাহিনা আক্তারের প্রেমের বিয়ে হয়। এই দম্পতির আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। শাহিনা পলাশবাড়ী সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় শাহিনার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন সিয়াম।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারধরের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকারে করে শাহিনাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত্যুর খবর জানার পর সিয়াম দ্রুত গাড়ি নিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন। আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি পালিয়ে যান। পরে বাড়িতে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে শাহিনার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেও অভিযোগ তাদের।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় নতুন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে একাধিক পুরোনো আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি গলায় নতুন জখমের চিহ্ন মিলেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন