জেলার সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকা জোগাড় করতে তিন বছরে চার শিশু বিক্রির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে দারিদ্র্য ও মাদকের ভয়াবহ ছোবলে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে চারটি শিশু সন্তান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত কয়েকটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের পাশাপাশি নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের জাকির মিয়া ও ফারজানা আক্তার দম্পতির ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। অভিযোগ রয়েছে, জন্মের পরপরই নবজাতকটিকে পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় এক পক্ষের কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

 

শিশুটির বাবা জাকির মিয়ার দাবি, তার অজান্তেই স্ত্রী ফারজানা আক্তার, শাশুড়ি ও দুই দালাল মিলে নবজাতককে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে সন্তানের খোঁজে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় শিশুটিকে অন্যত্র উচ্চমূল্যে পাচার করা হয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তবে ফারজানা আক্তারের পাল্টা দাবি, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং সংসারের সংকটের কারণেই স্বামীর অনুমতি নিয়ে এই লেনদেন হয়েছিল; এখন অন্যদের পরামর্শে তিনি থানায় নাটক সাজাচ্ছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির-ফারজানা দম্পতি ছাড়াও একই গ্রামে গত তিন বছরে সাদ্দাম হোসেনের এক সন্তান দেড় লাখ টাকায় এবং জাকির হোসেন ও আসাদ মিয়ার দুই সন্তান দুই লাখ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মঙ্গলা বেগম নামের এক নারী ভিক্ষুক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঘুরে ঘুরে এসব শিশু কেনাবেচা করেন। পরে এসব শিশুকে আরও চড়া দামে অন্যত্র হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে তাদের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই একের পর এক সন্তান বিক্রির মতো অমানবিক ঘটনা ঘটছে। এলাকায় নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুদের মাঝেও মাদকের বিস্তার বাড়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, শিশু বিক্রির অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন