গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরোধিতা করেছে ব্রিকস। একই সঙ্গে ইরান ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাত প্রতিরোধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’য় এসব বিষয় উঠে আসে।
ঘোষণায় ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো নীতির অবসানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রিকস নেতারা এমন কিছু ব্যবস্থার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং দখলদারত্বকে বৈধতা দিতে বা দীর্ঘায়িত করতে পারে।
ঘোষণায় বলা হয়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়ে অর্জন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্বে মেরুকরণ ও অবিশ্বাস বাড়ার প্রেক্ষাপটে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায় ব্রিকস। সংঘাত প্রতিরোধে এর মূল কারণগুলো মোকাবিলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সংস্থাগুলোকে সংঘাত প্রতিরোধ ও সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া পারমাণবিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা নিয়েও ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে জোটটি। যুদ্ধের সময়ও পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ডিবিসি/এসএফএল