আগামী ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশার কথা জানান।
নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিস্তা নদীর তীরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব এবং এ অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে এই মহাপরিকল্পনা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যে তিনি কেবল নদী ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং সামাজিক নানা অসঙ্গতি দূর করার ওপরও জোর দেন। মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি বন্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ শেষে এলাকার সুবিধাবঞ্চিতদের আত্মকর্মসংস্থান ও কল্যাণে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ১১টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রীড়া সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫০টি দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে সরকারি জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মইনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনোনিতা দাস, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।
ডিবিসি/আরএসএল