মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা ইঙ্গিত করে একটি পোস্ট করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী কোনো দেশই চাঁদের সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন পতাকার পাশাপাশি "দ্য মুন ইজ আওয়ার্স" (চাঁদ আমাদের) লিখে একটি ছবি পোস্ট করেন। এরপরই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয় যে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই চাঁদকে নিজেদের ভূখণ্ড ঘোষণা করেছে কি না।
ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, ট্রাম্পের পোস্টটি আসল হলেও এর পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি ঘোষণা বা নির্বাহী আদেশ ছিল না।
জাতিসংঘের 'আউটার স্পেস ট্রিটি' (বহিঃমহাকাশ চুক্তি) অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের মালিকানা দাবি করতে পারে না। চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, চাঁদ বা অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুকে সার্বভৌমত্ব দাবি করে, ব্যবহার বা দখল করে বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো রাষ্ট্র নিজের অধিকারভুক্ত করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাক্ষরকারী দেশ। ফলে এই চুক্তি ভঙ্গ করলে দেশটিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাকাশ বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওওএসএ)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য চুক্তির আওতায় চাঁদের আইনি অবস্থান পরিবর্তন করে না। কোনো বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কি না, তা নির্ভর করে এর আইনি চরিত্র, প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্যের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চাঁদ স্পর্শ করা অন্য চার দেশ চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ফলে ট্রাম্পের এই ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তবে এই বক্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের মহাকাশ নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এর আগে ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী মার্কিন ফাঁড়ি স্থাপন ও পারমাণবিক চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। এমনকি তার প্রথম মেয়াদে তিনি মহাকাশকে একক আন্তর্জাতিক সম্পদ হিসেবে গণ্য না করে জাতীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
ডিবিসি/হাদী