আন্তর্জাতিক, ভারত

ডিএনএ টেস্টে জানা গেল বহু বছরের বান্ধবী আসলে আপন বোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আশির দশকের শুরুতে ভারতের মুম্বাই শহরের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজসেনকে। জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের ঠাঁই হয়েছিল নেদারল্যান্ডসে। কৈশোরের শুরুতে দত্তক নেওয়া সংস্থাটির এক অনুষ্ঠানে দুজনের প্রথম দেখা হয়, আর প্রথম দর্শনেই তাদের চেহারা ও স্বভাবের অবিশ্বাস্য মিল সবাইকে চমকে দেয়।

বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী মীনা সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে জানান, অনুষ্ঠানে বন্ধুরা তাদের দুজনের চেহারার অদ্ভুত মিল দেখে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখতে বলে। মীনা বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, মিনালের নাক ঠিক আমার মতো এবং আমাদের হাসির ধরনও এক। পুরো ডিনারের সময় আমি কেবল ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।’

 

পরের দিনই তারা ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করেন। তখন রক্তের সম্পর্কের কোনো প্রমাণ না থাকলেও তাদের মধ্যে তাৎক্ষণিক এক গভীর আত্মিক টান তৈরি হয়। বছরের পর বছর তারা চিঠিপত্র চালাচালি করতেন এবং একে অপরকে আদর করে ‘বোন’ বলে সম্বোধন করতেন। তাদের পছন্দ-অপছন্দ, বিশেষ করে ব্যাকস্ট্রিট বয়েজের গানের প্রতি টানও ছিল একই রকম।

 

তবে প্রায় ১৫ বছর আগে মিনাল ফ্রান্সে চলে যাওয়ায় এবং মীনা সন্তান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে দুজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

২০১৭ সালে ভারত থেকে দত্তক আসা ব্যক্তিদের এক সম্মেলন থেকে ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়ে জানতে পেরে পরীক্ষা করান মীনা। তবে দীর্ঘদিন কোনো মিল না পাওয়ায় তিনি অ্যাপটি মুছে ফেলেন।

 

ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয় গত ২০ মে, যখন ফেসবুকে মিনালের কাছ থেকে একটি অপ্রত্যাশিত বার্তা পান মীনা। এতে লেখা ছিল- ‘মনে আছে আমাকে?’ এর সঙ্গে মিনাল যুক্ত করেন নিজের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি স্ক্রিনশট, যা তিনি গত এপ্রিলে নেদারল্যান্ডসে এসে করিয়েছিলেন।

 

বার্তাটি দেখে মীনা পুনরায় অ্যাপটি ডাউনলোড করে লগইন করেন। ফলাফল আসতেই দুজনের চোখ ছানাবড়া- ডিএনএ পরীক্ষায় তাদের মধ্যে ‘১০০ ভাগ মিল’ পাওয়া যায়। যার স্পষ্ট অর্থ, তারা অন্য কেউ নন, একই বাবা-মায়ের গর্ভজাত আপন সহোদরা বোন।

 

গত আগস্টে সত্য জানার পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন এই দুই বোন। বর্তমানে তিন সন্তানের জননী মীনা আবেগঘন কণ্ঠে জানান, এটি ছিল ঠিক নিজের ঘরে ফিরে আসার মতো এক অনুভূতি। এতদিন হৃদয়ে যে অপূর্ণতা ছিল, আজ তা সম্পূর্ণ হয়েছে। শৈশবে একে অপরকে বোন ডাকার যে সহজাত অনুভূতি ছিল, ডিএনএ পরীক্ষায় সেটিই চিরন্তন সত্য হিসেবে প্রমাণিত হলো।

 

সূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন
 

আরও পড়ুন