কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তাতে খোদ এই প্রযুক্তির পেছনে কাজ করা গবেষকেরাই ‘চরম আতঙ্কিত’। বর্তমান অগ্রগতির লাগাম টেনে না ধরলে অদূর ভবিষ্যতেই মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন।
সম্প্রতি চাকরি ছাড়ার পর বিবিসির লরা কুয়েনসবার্গের সঙ্গে আলাপকালে ২৭ বছর বয়সী কক্সন বলেন, "আমরা যদি এখনই এই অগ্রগতির গতি ধীর না করি, তবে অদূর ভবিষ্যতেই মানবজাতির ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।" তিনি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষ সংস্থায় কাজ করেছেন।
কক্সন জানান, এআই খাতে জড়িত প্রকৌশলীরা একটি নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতায় আটকে পড়েছেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও সমন্বিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম ধীরগতির করার আহ্বান জানান। এমনকি বট নেটওয়ার্ক ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার মতো বিপর্যয় আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই দেখা দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
কক্সনের উদ্বেগের সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আরেক বিজ্ঞানী ইভান হুবিঙ্গার। তিনি দাবি করেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। তবে এর ইতিবাচক দিক নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে কক্সন বলেন, গবেষকেরা রোগবালাই নিরাময় ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করতে চান।
অ্যানথ্রপিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে তারা শুরু থেকেই সচেতন এবং সর্বোচ্চ সুরক্ষা বজায় রেখেই মডেল তৈরি করছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দারিও আমোদেই-ও এক প্রবন্ধে এআইয়ের অগ্রগতি ধীর করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন।
তবে সিলিকন ভ্যালির সবাই এই সতর্কবার্তাকে আমলে নিচ্ছেন না। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং এ ধরনের আশঙ্কাকে পুরোপুরি অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’-এর প্রধান ক্লেমেন্ট দেলাংগেও কক্সনের এমন মূল্যায়নকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের কারও কারও মতে, সম্ভাব্য আইপিও বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচার বাড়াতে বা বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেও এমন আতঙ্ক ছড়ানো হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/হাদী