পতিতাবৃত্তি ও অশ্লীলতার অভিযোগে তুরস্কের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। একই সঙ্গে ছয়টি এলজিবিটিকিউ+ সংগঠনের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
তুর্কি সরকারের দাবি, পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের শেষে ১২টি প্রদেশে মোট ৩৮ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য, ডিজিটাল ডিভাইস, চোরাই মদ এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন প্রবৃত্তি ও জেন্ডার পরিচয়ের বিষয়ে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আয়দিন ও মেরসিনসহ ১৫টি প্রদেশে মোট ১৬২ জন সন্দেহভাজন, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে আঙ্কারাভিত্তিক এলজিবিটিকিউ+ অধিকারবিষয়ক সংস্থা ‘কাওস জিএল’ দাবি করেছে, প্রকৃত আটকের সংখ্যা অন্তত ৫০ জন। এর মধ্যে ১০ জনেরও বেশি কর্মীকে তাদের বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া এলজিবিটিকিউ+ অধিকারকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে বলেও সংস্থাটি জানায়।
‘মাই ফ্যামিলি ইজ সেফ’ শীর্ষক এই অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তুর্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, পারিবারিক সুরক্ষার নামে মূলত নাগরিক সমাজকে দমন ও বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, জন্মহার হ্রাস ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ঘোষিত ‘পরিবার ও জনসংখ্যা দশক’ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন