আন্তর্জাতিক

এআই মানবজাতির জন্য ঝুঁকি, ধাপ্পাবাজি বলে উড়িয়ে দিল ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই একে স্রেফ ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে উড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রযুক্তির বিকাশে লাগাম টানার বা সুরক্ষাকবচ আরোপের যে দাবি উঠেছে, তা একেবারেই মানতে নারাজ তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই সতর্কবার্তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বা 'গ্লোবাল ওয়ার্মিং স্ক্যাম'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার ভাষায়, এটি মূলত 'কট্টর বামপন্থি ডেমোক্র্যাটদের' ছড়ানো গুজব। ট্রাম্প মনে করেন, এআইয়ের জন্য আলাদা কোনো সুরক্ষাকবচের দরকার নেই; বরং একজন 'শক্তিশালী ও চতুর' প্রেসিডেন্টই এর জন্য যথেষ্ট। অন্য একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, এআই ও ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে এক ধরনের অসুস্থ ষড়যন্ত্র চলছে, আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে কেবল চীন। তার স্পষ্ট কথা, এআইয়ের দৌড়ে যে এগিয়ে থাকবে, সেই হবে আসল বিজয়ী।


ট্রাম্প এমন এক সময়ে মন্তব্যটি করলেন, যখন খোদ প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ কর্তারাই এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্ক করে আসছেন। যেমন, শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক বিবিসিকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রযুক্তিটি যাতে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায়, সেজন্য একটি বাধ্যতামূলক 'কিল সুইচ' রাখার আইন করা এখন সময়ের দাবি। শঙ্কাটা ঠিক কতটা গভীর, তা বোঝা যায় অ্যানথ্রপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন এবং ইভান হুবিঙ্গারের কথায়। হুবিঙ্গারের মতে, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি ধ্বংস হওয়ার অন্তত ১০ শতাংশ ঝুঁকি রয়েছে।


পরিস্থিতি বিবেচনায় অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআইয়ের উন্নয়নের গতি আপাতত কমিয়ে আনা এবং নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই প্রস্তাবের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের (xAI) প্রধান ইলন মাস্কও। পিছিয়ে নেই মাইক্রোসফটও; প্রতিষ্ঠানটির এআই বিভাগের প্রধান মুস্তাফা সুলেমান 'হিউম্যানিস্ট এআই' বা মানবতাবাদী এআইয়ের ওপর জোর দিয়ে নতুন নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন। খোদ প্রযুক্তিবিশারদদের এমন উদ্বেগের কারণে সম্প্রতি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।


এদিকে এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ ঠেকাতে মার্কিন রাজনীতিতেও এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। নীতি পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে ট্রাম্পের সাবেক স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ ব্যানন এবং প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডারস ওয়াশিংটনে একমঞ্চে হাজির হচ্ছেন। মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হওয়ার আশঙ্কায় স্যান্ডারস এরই মধ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।


অন্যদিকে এআইয়ের ঝুঁকির কথা স্বীকার করলেও এর জনসেবা, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যগত সুবিধার দিকগুলোও মনে করিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী জনাথন রেনল্ডস। তিনি চান এই দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকুক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্বেগ নিয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি আবার ভিন্ন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই উন্নয়নে চীনের দ্রুত অগ্রগতি দেখে যুক্তরাষ্ট্র ঘাবড়ে গেছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকরা হয়তো ভয় পাচ্ছেন, তারা যদি প্রযুক্তির উন্নয়ন ধীর করে দেন, তবে সেই সুযোগে চীন তাদের সহজেই টপকে যাবে।


সূত্র: বিবিসি


ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন