সৌদি আরবের তিন শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ বেসামরিক ব্যক্তি আহত হওয়ার পর ইয়েমেনে কয়েক ডজন বিমান হামলার অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এসব হামলার দৃঢ় জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
জোট মঙ্গলবার জানায়, খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফে হুতিদের হামলায় আহত ব্যক্তিদের আঘাত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্বশীল ও দৃঢ়ভাবে এসব হামলা মোকাবিলা করা হবে।
পরে হুতিরা দাবি করে, আগের ২৪ ঘণ্টায় লাহজ, তায়েজ, আল-জাওফ, মারিব ও হাজ্জাহ প্রদেশে ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। হুতিপন্থী সংবাদমাধ্যমের দাবি, তায়েজের ধুবাব ও মাকবানাহ জেলায় হামলায় দুই শিশুসহ তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। এসব অভিযোগ নিয়ে সৌদি আরব প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
হুতিরা সোমবার জানায়, সৌদি বিমান হামলার প্রতিশোধে খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তারা। গোষ্ঠীটির দাবি, আগের পাঁচ দিনে ইয়েমেনে ৩০০ বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি যুদ্ধবিমান।
পাল্টাপাল্টি হামলার আগে গত সপ্তাহে পশ্চিম ইয়েমেনে দ্রুত অগ্রসর হয় হুতিরা। হুতি ও ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গোষ্ঠীটি বৃহত্তর ও ক্ষুদ্রতর হানিশ দ্বীপ দখল করেছে। তাদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রায় মাইয়ুন দ্বীপও অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী তায়েজে কিছু অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে। আল জাজিরা যুদ্ধক্ষেত্রের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা ও লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের যুদ্ধ আবার তীব্র হয়েছে। এতে ২০২২ সালের জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি হুমকিতে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এসএফএল