চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ শহর এলাকায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর মডেল থানায় নিমাই হলদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মৎস্যচাষি মো. জাহিদুল ইসলাম সেলিম (৫৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ শহর এলাকায় ৪ দশমিক ৯৮ একর আয়তনের ওই পুকুরটি ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য ইজারা (লিজ) নেন মো. সারিউল ইসলামসহ কয়েকজন। তবে পুকুরটিতে মাছ চাষের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন জাহিদুল ইসলাম সেলিম। লিজ নেওয়ার পর থেকেই তিনি সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করে আসছিলেন।
লিখিত অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিট থেকে ভোর ৫টার মধ্যে নিমাই হলদারসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। পরে তারা কাপাজাল ব্যবহার করে পুকুরে চাষ করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০০ মণ মাছ ধরে নিয়ে যায়। লুট হওয়া এসব মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা।
এছাড়া বিষের তীব্রতায় পুকুরের প্রায় ১৫ মণ পোনা মাছ মারা যায়, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে বিষের প্রভাবে আরও প্রায় ১০ মণ মাছ পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন সেগুলো ধরে নিয়ে যান, যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় তার প্রায় ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে জাহিদুল ইসলাম দ্রুত পুকুরে ছুটে যান এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারেন। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিমাই হলদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, অন্য একজন ব্যক্তি তাদেরকে মাছ ধরার জন্য শ্রমিক হিসেবে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পরে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন এবং এরপর আর কল রিসিভ করেননি।
সার্বিক বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, তিনি অভিযোগের বিষয়টি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
ডিবিসি/এমএনকে