রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মির্জা ফয়সল আমীন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। ফরমটি সংগ্রহ করেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর পয়গাম আলী সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দল মির্জা ফয়সল আমীনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে তিনি ভালো ফলাফল করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


তিন দশকের রাজনৈতিক পথচলা
মির্জা ফয়সল আমীন এমন একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যার সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে আছে। তার বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমীন ছিলেন আইনজীবী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। চাচা মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজও ছিলেন দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ; তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।


তার বড় ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন।


তবে পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে মির্জা ফয়সল আমীনের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে ধাপে ধাপে দলীয় নেতৃত্বে উঠে এসেছেন তিনি।


ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে
ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুলে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করে আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


তবে রাজনীতির প্রতি আগ্রহ এবং নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার প্রত্যাশায় সেই পেশাগত জীবন দীর্ঘস্থায়ী করেননি। ১৯৯১ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যুক্ত হন।


এর আগে ১৯৮৯ সালে বাবার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি রাজনীতির মাঠে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা শুরু হয়। এরপর ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে করতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।


পৌর মেয়র থেকে জেলা বিএনপির নেতৃত্বে
মির্জা ফয়সল আমীনের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আসে ২০১৫ সালে। ওই বছর ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় পৌর এলাকার নাগরিক সেবা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি।


এরপর ২০১৭ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রায় আট বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন।


দীর্ঘ এই সাংগঠনিক পথচলার পর ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


সংকটেও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার দাবি
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক মামলা-মোকদ্দমা, সাংগঠনিক সংকট কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যায় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘ সময় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকায় তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঠাকুরগাঁওয়েও যখন নানা ধরনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেন বলে স্থানীয় দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।


বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কোনো সাধারণ নাগরিক যেন হয়রানি বা সহিংসতার শিকার না হন- এমন অবস্থানও সে সময় তার পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয় বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।


উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পর এবার জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার দৌড়ে নিজের নাম সামনে এনেছেন মির্জা ফয়সল আমীন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে তিনি দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন।


বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফরম জমা দিতে পারবেন।


আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।


ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, পৌর মেয়র হিসেবে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন এবং জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাই এখন মির্জা ফয়সল আমীনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বড় শক্তি হিসেবে সামনে আসছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন দলের হাতে। মনোনয়ন পেলে দীর্ঘদিনের তৃণমূলের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিই হবে পরবর্তী আলোচনার বিষয়।

ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন