যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে নির্মিত নিজেদের প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন আধুনিকায়ন ও সংস্কার করছে উত্তর কোরিয়া। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের সাম্প্রতিক চিত্রে সিনপো সাউথ শিপইয়ার্ডের ড্রাইডকে ‘গোরে-ক্লাস’-এর একমাত্র সাবমেরিন ‘৮.২৪ ইয়ংগুং’-এর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।
২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত হয়েছিল এই নৌযানটি। পরবর্তী প্রজন্মের সাবমেরিনগুলোর তুলনায় এটি ছোট ও কম সক্ষম হলেও, দেশটির সাবমেরিন প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ড্রাইডকের ওপর থাকা আড়াল বা শেড সরিয়ে সাবমেরিনটিকে সংস্কার কাজের আওতায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটিকে সহায়তাকারী জাহাজের পাশে সুরক্ষিত বেসিনে অবস্থান করতে দেখা যায়। প্রযুক্তিবিদদের মতে, মূলত পরীক্ষামূলক যান হিসেবে ব্যবহৃত হলেও নতুন করে সংস্কারের ফলে এটিকে সক্রিয় সামরিক সার্ভিসে ব্যবহারের লক্ষ্য থাকতে পারে পিয়ংইয়ংয়ের।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়া তাদের প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত ৮,৭০০ টন ওজনের সাবমেরিন নির্মাণের ছবি প্রকাশ করেছিল। সেই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরিতে এই গোরে-ক্লাস সাবমেরিনটির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সংস্কার শেষে এটি সামরিক প্রশিক্ষণে থাকবে নাকি নিয়মিত সার্ভিসে যুক্ত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও মার্কিন মূল ভূখণ্ডে পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা অর্জনকে দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া। স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই পিয়ংইয়ংয়ের বর্তমান মূল লক্ষ্য।