সারা বাংলা

পটুয়াখালীতে বিএনপি কার্যালয়ে সালিশ, হাজির না হলে একতরফা সিদ্ধান্তের হুঁশিয়ারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বৈঠকের ডাক দিয়েছে কুয়াকাটা পৌর বিএনপি। নোটিশে নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনুপস্থিতিতেই ‘একতরফা সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

তবে আদালতে বিচারাধীন একটি দেওয়ানি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে এমন নোটিশ জারির আইনি এখতিয়ার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন বিবাদী পক্ষ। অন্যদিকে জেলা বিএনপি জানিয়েছে, জমিজমা নিয়ে দলের এমন সালিশ করার কোনো সুযোগ নেই।

 

ঘটনাটি কুয়াকাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জুপাড়া এলাকার হোটেল সান মেরিনা-সংলগ্ন জমি নিয়ে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বাদী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আকন এবং বিবাদী মো. মোশারফ হোসেনকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেল ৪টায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সাক্ষী ও প্রমাণাদিসহ পৌর বিএনপি কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

নোটিশের শেষাংশে সতর্ক করে বলা হয়, নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে উপস্থিত না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে অভিযোগের বিষয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দেওয়া এমন নোটিশের বৈধতা ও এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিবাদী মো. মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘২০১০ সালে হোটেল নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নামজারি ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছি। সেখানে সীমানাপ্রাচীর, সেমিপাকা ঘর ও কটেজ তুলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছি। সম্প্রতি জাহাঙ্গীর আকন জমিটি রাখাইন সম্প্রদায়ের দাবি করে আমাকে হয়রানি করছেন।’

 

তিনি আরও জানান, বিএস রেকর্ডের ভুলের কারণে ২০২১ সালে পটুয়াখালীর দ্বিতীয় সাব-জজ আদালতে তিনি একটি মামলা (মামলা নং ৩৭৯/২১) করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন এবং জমিটির ওপর আদালতের স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) রয়েছে। মোশারফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ডেকে সালিশ করা কিংবা একতরফা সিদ্ধান্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া পুরোপুরি এখতিয়ারবহির্ভূত।’

 

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান প্রথমে নোটিশ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও একতরফা সিদ্ধান্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারির বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুটা পিছু হটেন। তিনি বলেন, ‘স্বাক্ষরটি আমার কি না, তা যাচাই করে দেখতে হবে। দলীয় কার্যালয় থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার তো সুযোগ নেই। বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখে পরে জানাব।’

 

এদিকে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসল্লি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

তবে দলীয় কার্যালয়ে সালিশ ডাকার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘নোটিশটি আমাদের নজরে এসেছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে বিএনপির এ ধরনের সালিশি করার বা আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন