শৈশবের স্মৃতি আর মমতা কখনো পুরনো হয় না, আর অকৃত্রিম সম্পর্কের টান যে কোনো সীমানা মানে না তারই এক বিরল ও অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন ডক্টর রেনয় ফিলিপ। জন্মের পর থেকে টানা দেড় দশক যাঁর পরম স্নেহে বড় হয়েছিলেন, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক (২৯ বছর) পর সেই শৈশবের কাজের বুয়া ‘জানকী আন্টি’র খোঁজে ছুটে যান তিনি।
বর্তমানে ৯৩ বছর বয়সে পৌঁছানো জানকী আন্টির সঙ্গে চিকিৎসকের এই আবেগঘন পুনর্মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে। সেখানে ফিলিপের জন্মের পর থেকেই তাঁদের পরিবারের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জানকী আন্টি। টানা ১৫ বছর ধরে মায়ের মমতায় ফিলিপকে আগলে রেখেছিলেন তিনি।
শৈশব পেরিয়ে ফিলিপ একসময় ভারতে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। অন্যদিকে জানকী আন্টিও নিজ দেশে ফিরে বার্ধক্যের দিন কাটাচ্ছিলেন। তবে জীবনের ব্যস্ততা বাড়লেও শৈশবের সেই অতি প্রিয় মানুষটিকে কখনো মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি ড. ফিলিপ।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিপ তাঁর বাহরাইনের শৈশবের পুরনো পারিবারিক অ্যালবামের পাতা উল্টাচ্ছেন। একটি ছবিতে আঙুল রেখে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই মানুষটিই ১৫ বছর ধরে তাঁদের পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন। নিজের মা ও জানকী আন্টির সঙ্গে তোলা অন্য একটি ছবি দেখিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর পর তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি আর অপেক্ষা করতে পারছেন না। তিনি কেমন আছেন, তা স্বচক্ষে দেখতে সোজা রওনা হন বৃদ্ধার বাড়ির ঠিকানায়।
ভিডিওর শেষাংশে দেখা যায়, ফিলিপ জানকী আন্টির বাড়ির দরজায় পৌঁছে পরিচিত সুরে ডাক দিচ্ছেন। ৯৩ বছর বয়সী জানকী আন্টিকে সামনে পেতেই দুজনের মাঝের দীর্ঘ ২৯ বছরের দূরত্ব এক নিমেষেই মিলিয়ে যায়।
এতদিন পর নিজের স্নেহের সন্তানসম ফিলিপকে চোখের সামনে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধা; বাঁধভাঙা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শৈশবের পরিচর্যাকারীর প্রতি একজন চিকিৎসকের এমন নিখাদ কৃতজ্ঞতাবোধ ও গভীর টান বর্তমান সময়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এমএনকে