কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে আয়শা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, যৌতুকের দাবিতে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত আয়শা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের গাংটিয়ারা গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সির মেয়ে। তার স্বামী আবদুল ওহাব (৪০) মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর দাগার বাড়ি গ্রামের মৃত শহিদের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর আগে ওহাবের সঙ্গে আয়শার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। সম্প্রতি বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
নিহতের ভাই জানান, নির্যাতনের কারণে তারা আয়শাকে স্বামীর বাড়ি পাঠাতে চাননি। পরবর্তীতে ওহাব ভবিষ্যতে নির্যাতন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে বাড়ির উঠানে আয়শার মরদেহ দেখতে পান। ঘটনার পর থেকে স্বামী ওহাবসহ পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তারা হত্যা মামলা দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।