আন্তর্জাতিক

জাপানের মাউন্ট ফুজিতে ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে গেলে নিজেকেই দিতে হবে উদ্ধারের খরচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জাপানের বিখ্যাত মাউন্ট ফুজিতে অফ-সিজন বা অসময়ে পাহাড়ে চড়ে বিপদে পড়লে এখন থেকে নিজের পকেট থেকেই গুনতে হবে উদ্ধারের খরচ। আগামী বছর থেকে ফুজির উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ইয়ামানাশি প্রদেশ কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। মূলত কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে ওঠা নিরুৎসাহিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অসময়ে পাহাড়ে চড়তে গিয়ে কেউ আটকা পড়লে বা পথ হারালে তাকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধারের পুরো খরচ বহন করতে হবে। উল্লেখ্য, পার্শ্ববর্তী সাইতামা প্রদেশে অন্যান্য পাহাড়ি এলাকার জন্য উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচ মিনিটে আট হাজার ইয়েন (প্রায় ৫১ ডলার) ফি নেওয়ার নিয়ম আগে থেকেই চালু রয়েছে। মাউন্ট ফুজির ক্ষেত্রেও এই হিসাবটিকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হতে পারে। এর পাশাপাশি, সেপ্টেম্বর থেকে জুলাই পর্যন্ত চলা অফ-সিজনে কেউ ফুজিতে চড়তে চাইলে তাকে কর্তৃপক্ষের কাছে আগে থেকেই বিস্তারিত আরোহণের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।


এ বিষয়ে ইয়ামানাশির গভর্নর কোতারো নাগাসাকি সবাইকে অফ-সিজনে পাহাড়ে চড়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন এই নিয়মের ফলে শীতকালে মাউন্ট ফুজিতে ওঠার মতো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মানুষ অন্তত দ্বিতীয়বার ভাববে।


সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, অনেকেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়া অসময়ে পাহাড়ে চড়ছেন এবং মাঝপথে গিয়ে আটকা পড়ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফুজির দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা শিজুওকা প্রদেশ কর্তৃপক্ষও কড়া অবস্থানে যাচ্ছে। তারা জানিয়েছে, অসময়ে পাহাড়ে ওঠার আগে নিবন্ধন না করলে তারা জরিমানা করবে এবং সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে তারা এখনই হেলিকপ্টার উদ্ধারের জন্য আলাদা কোনো ফি নেওয়ার কথা জানায়নি।


সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত মাউন্ট ফুজিতে আরোহণের মূল সময় বা অফিশিয়াল সিজন হিসেবে ধরা হয়। প্রতি বছর এই সময়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ পর্বতচূড়ায় ওঠার চেষ্টা করেন। এই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে পাহাড়ে চড়তে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে কর্তৃপক্ষ। কারণ, অফ-সিজনে পাহাড়ের বেশিরভাগ কুটির ও শৌচাগার বন্ধ থাকে। সেই সাথে আবহাওয়া ও পথের অবস্থাও হয়ে ওঠে অত্যন্ত বৈরী ও বিপজ্জনক।


সূত্র: বিবিসি


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন