১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের একটি বিশেষ আদালত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমর্থিত কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স ৫৮ বছর বয়সী থাচি ছাড়াও কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) আরও তিন সাবেক শীর্ষ কমান্ডারকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে।
আদালতের রায়ে রাজনৈতিক বিরোধী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন, নির্মম আচরণ, বেআইনিভাবে আটক এবং ৯৬ জনকে হত্যার ঘটনায় থাচি ও তার সহযোগীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। থাচির বিরুদ্ধে এককভাবে ৩৮৫ জনকে বেআইনি আটক, ৩০৩ জনকে নির্যাতন এবং প্রায় ৫০ জনের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় প্রধান বিচারক চার্লস স্মিথ জানান, অপরাধগুলোর মাত্রা ও প্রকৃতি অত্যন্ত গুরুতর ছিল এবং থাচি তার নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব ব্যবহার করে এসব অপরাধে সরাসরি অংশগ্রহণ ও উসকানি দিয়েছেন। তবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর নিয়মতান্ত্রিক বা ব্যাপক মাত্রায় হামলার প্রমাণ না পাওয়ায় আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ খারিজ করে দেন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সাবেক কমান্ডার ইয়াকুপ ক্রাসনিকিকে ২৫ বছর, কাদ্রি ভেসেলিকে ১৮ বছর এবং রেজেপ সেলিমিকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রসিকিউটররা তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অভিযুক্তরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
এদিকে আদালতের এই রায়ের পর কসোভোজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দেশটির রাজধানী প্রিস্টিনায় বড় পর্দায় সরাসরি রায় দেখে স্থানীয় নাগরিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লাউক কোনজুফকা এটিকে একটি 'দুঃখজনক, অন্যায্য ও অযৌক্তিক রায়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। থাচির রাজনৈতিক দল পিডিকে দাবি করেছে, সার্বীয় অপপ্রচারের ওপর ভিত্তি করে এই অবিচার করা হয়েছে।
সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ে কেএলএ-র রাজনৈতিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা থাচি ২০০৮ সালে কসোভোর স্বাধীনতা ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালেই প্রায় ছয় বছর আগে অভিযোগ গঠনের মুখে তিনি পদত্যাগ করে বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
ডিবিসি/আরএসএল