মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে যৌক্তিক আচরণ ও সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে চীন। একইসঙ্গে গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিতে ফিরে গিয়ে দুপক্ষকে আবারও অর্থবহ আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছে বেইজিং।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সব পক্ষকে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান ওয়াং। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইয়েমেন ও লোহিত সাগর পর্যন্ত এই আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ুক, তা চীন দেখতে চায় না। অতীতের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই ওয়াশিংটন ও তেহরানকে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করতে হবে বলে মত দেন চীনের এই শীর্ষ কূটনীতিক।
চীনের আহ্বানের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তার দেশ নিজস্ব সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে ইরানিদের অধিকার নিশ্চিত করে এমন যেকোনো কূটনৈতিক সমাধানকেও তেহরান স্বাগত জানায়।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আগামী সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক তার আগেই বেইজিংয়ে এই দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। গত মঙ্গলবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, আসন্ন ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকে তেহরানের সঙ্গে চীনের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। মূলত পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থা থেকে ইরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, ইরানের জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। বেইজিং বারবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ ও স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের ওপর জোর দিলেও, এতদিন জাহাজ চলাচলে তেহরানের হুমকির বিষয়ে সরাসরি কোনো বিরোধিতা করেনি।
তবে বুধবারের বৈঠকে ওয়াং ই জানান, বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; একে সংস্কার ও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এই অঞ্চলে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চীন সবসময় প্রস্তুত এবং ইরানের প্রতি তাদের নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসভিএন