জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পৃথক দুটি র্যাগিংয়ের ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত অভিযুক্তদের চলমান ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ডিসিপ্লিন বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র্যাগ দেন। সেখানে ভুক্তভোগীদের অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং কান ধরিয়ে ওঠবস করানো হয়। এ ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ, সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুল এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজুকে ৪৫ হাজার টাকা, মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪০ হাজার টাকা এবং মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে র্যাগ দেন। সেখানে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, কান ধরানো এবং ম্যানার শেখানোর নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী অভিযুক্তদের এই জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সতর্ক করেছে।
ডিবিসি/আরএসএল