আন্তর্জাতিক

ককরোচ জনতা পার্টির নতুন আন্দোলন ‘আদিবাসী স্কুল ঠিক করো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৯ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের আদিবাসী স্কুলগুলোর প্রতি সরকারি উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে মহারাষ্ট্রের গডচিরোলিতে 'আদিবাসী স্কুল ঠিক করো' প্রচার অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে সিজেপির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন আদিবাসী স্কুল পরিদর্শন করবেন এবং সেখানকার সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো খতিয়ে দেখবেন।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দিপকে জানান, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যসহ অন্যান্য সমস্যার দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র এক মাস আগেই গ্রামীণ ও শহুরে সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থার উন্নতি করতে সিজেপি দেশব্যাপী 'স্কুল ঠিক করো' শীর্ষক একটি প্রচারণা শুরু করেছিল। দিপকে বলেন, গত ৮০ বছর ধরে সব সরকারই ভারতের আদিবাসী অঞ্চলের স্কুলগুলোকে অবহেলা করেছে। তাই বৃহস্পতিবার থেকে তারা গডচিরোলি জেলায় এই নতুন কর্মসূচি শুরু করছেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রায় সব সরকারই আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রতিটি জেলায় নিজেদের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করলেও, আদিবাসী আবাসিক স্কুলগুলোর জন্য তাদের কাছে কোনো তহবিল নেই। ফলে এসব স্কুল মূলত ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে। ৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দাবিকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় শহর বা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো গ্রামীণ ও আদিবাসী অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও দেশের ভবিষ্যৎ। তাই সরকার ও নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই বিশাল জনসংখ্যার এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের দিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার দেওয়া তথ্যমতে, গত দুই বছরে মহারাষ্ট্রে ৫৯০ জনেরও বেশি আদিবাসী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অনেকেই সাপের কামড়ে মারা গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই মৃত্যুগুলোর প্রতি সরকার কোনো ভ্রূক্ষেপই করছে না; অথচ পুনে বা মুম্বাইয়ে এমনটা ঘটলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হতো। তিনি আরও জানান, গত দুই মাসে মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে ৩০ জনের বেশি আদিবাসী শিক্ষার্থী মারা গেছে। এছাড়া ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডেও একই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের পরিবার সম্মানজনক ক্ষতিপূরণও পায় না। তার দাবি, রাজস্থানে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছাগল দেওয়া হয়েছে এবং মধ্যপ্রদেশে দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ টাকা।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন