প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, জীবনদক্ষতা ও বাস্তবজ্ঞান বাড়াতে কারিকুলামে বছরজুড়ে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিমকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে হেইলিবেরি ভালুকা ও ক্যামব্রিজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিট’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন না করে বাস্তব জীবনে কীভাবে নিরাপদ থাকতে হয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সামলাতে হয়, সেই জীবনদক্ষতাও শিখতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন করে কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২ মাসে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিম নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট একটি মাসে যে থিমকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, সংশ্লিষ্ট মাসের বিভিন্ন বিষয়ের পাঠেও সেই থিমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণ ও আলোচনা যুক্ত করা হবে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো মাসে যদি অগ্নিনিরাপত্তা থিম হিসেবে নির্ধারিত হয়, তাহলে গণিত, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও এ সংক্রান্ত আলোচনা যুক্ত করা যেতে পারে। একইভাবে সড়ক ও পানিতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব পাবে। এতে শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয়কে সহজে মিলিয়ে নিতে পারবে।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবে এবং কার্যকরভাবে শিখবে।
তিনি জানান, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শুধু নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবেও কাজ করতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভালো উদ্যোগগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অভিন্ন মানদণ্ড তৈরির মাধ্যমে সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিসি/এমএনকে