বাংলাদেশে ডেঙ্গু বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে রূপ নিয়েছে। বারবার এর মৌসুমী প্রাদুর্ভাব একদিকে যেমন অসংখ্য জীবনহানির কারণ হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপরও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ জানিয়েছে চলতি বছরের শুরু থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী ৫১ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটেছে।
চলতি ২০২৬ সালের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবটি একটি অস্বাভাবিক গতিপথ অনুসরণ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত জাতীয় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের হারের নিচে অবস্থান করছিল। কিন্তু আগস্টের শেষের দিক থেকে বর্ষার প্রভাবে সংক্রমণ আকস্মিক ও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে যায়।
জুলাই মাসে যেখানে ৯ হাজার ২০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, সেখানে আগস্ট মাসে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০ হাজার ৫৩৬ জনে দাঁড়ায় এবং কেবল আগস্টেই ৪৩ জনের মৃত্যু হয়।
সেপ্টেম্বর মাসে এসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দেশে ১৫ হাজারের বেশি নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে পরিস্থিতি এতটাই দ্রুত অবনতি হয়েছে যে, কেবল ৮ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর এই ছয় দিনেই ৮ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১৬ জন মারা গেছেন।
সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২০০-এর বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সংক্রমণের এই তীব্র ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সামাল দিতে হাসপাতালগুলোকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ডিবিসি/এমএনকে