সারা বাংলা

পাবনায় কাঁপা হাতে মাছ কেটেই সংসার চলে ৯০ বছর বয়সী নিয়ামত মোল্লার

স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বয়স পেরিয়েছে নব্বই। শরীরের শক্তি কমেছে, বয়সের ভারে হাত কাঁপে। তবু জীবনসংগ্রাম থেমে নেই পাবনা সদরের চর বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা নিয়ামত মোল্লার। কারও কাছে হাত না পেতে প্রতিদিন ভোরে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার মাসুম বাজারে এসে মাছ কাটার কাজ করেন তিনি। এই আয়েই চলে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর সংসার, জোটে দুমুঠো খাবার ও জরুরি ওষুধ।

জীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই নিয়ামত মোল্লার কেটেছে মাছের সঙ্গে। একসময় মাছ বিক্রি করলেও এখন বয়সের কারণে তা আর পারেন না, তাই বেছে নিয়েছেন মাছ কাটার কাজ। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই কাজের আয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিদিন ভোরে নিয়ম করে বাজারে এসে বসেন তিনি। চারপাশে থাকা কমবয়সী ও দ্রুতগতির মাছ কাটিয়াদের ভিড়ে তাঁর হাত চলে ধীরলয়ে, তবু তিনি থেমে যান না।

 

বাজারের অন্য কর্মীদের মতো দ্রুত কাজ করতে না পারলেও তাঁর চেষ্টা থাকে নিরন্তর। একটি মাছ কেটে তিনি পান মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা। দিন শেষে সব মিলিয়ে তাঁর আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রতিদিনের এই সামান্য আয়েই ঘোরে নবতিপর এই বৃদ্ধের সংসারের চাকা। কাঁপা হাতে তাঁর বঁটি চালানোর প্রতিটি মুহূর্ত যেন প্রমাণ করে বয়স যতই হোক, বেঁচে থাকার অদম্য তাগিদ মানুষকে কখনো থামতে দেয় না।

 

নবতিপর এই মানুষটির প্রতিটি সকাল যেন জীবনের কাছে নতুন করে লড়াই করার এক নীরব গল্প। তাঁর এই আত্মনির্ভরশীলতা ও নিরলস পরিশ্রম নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

জীবনের এই গোধূলি লগ্নে এসেও কারও কাছে করুণা ভিক্ষা না করে নিজের শ্রমে বেঁচে আছেন নিয়ামত মোল্লা। তাঁর এই জীবনসংগ্রাম দেখে স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, সমাজের সামর্থ্যবানদের উচিত নিয়ামত মোল্লার মতো এমন সংগ্রামী, আত্মমর্যাদাশীল ও অসহায় মানুষদের জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ানো।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন