এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।
ফিজি সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ৬০ জনের মধ্যে একজন বর্তমানে এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। পাঁচ বছর আগেও এই অনুপাত ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এইচআইভি সংক্রান্ত জটিলতায় নবজাতক মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।
ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানান, শুধু ২০২৫ সালেই দেশটিতে ২ হাজার ১৬ জনের দেহে নতুন করে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার প্রস্তুতি দিয়ে এই সংকট নিয়ন্ত্রণ করা আর সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও এনজিওগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মাত্রাতিরিক্ত মাদকাসক্তি, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, সুচ ভাগাভাগি এবং বিপজ্জনক 'ব্লুটুথিং' পদ্ধতির কারণে দেশটিতে এইচআইভি মহামারি আকার ধারণ করেছে।
'ব্লুটুথিং' বা 'হটস্পটিং' হলো এমন একটি বিপজ্জনক চর্চা, যেখানে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি অন্য এক নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির শরীর থেকে রক্ত টেনে নিয়ে নিজের শরীরে পুশ করে। অল্প খরচে নেশা করার সুযোগ এবং ফিজিতে সিরিঞ্জের সংকট থাকায় এই প্রবণতা বাড়ছে, যা আফ্রিকার কিছু অংশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই জাতীয় সংকট মোকাবেলায় ফিজির সরকার সিরিঞ্জ ও সূঁচ বিতরণ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশটিতে পর্যাপ্ত সিরিঞ্জের মজুদ রয়েছে এবং কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংসদে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক ভীতি ও লোকলজ্জা এড়িয়ে সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইডস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে বসবাসরত প্রায় ৯ হাজার ১০০ জন এইচআইভি আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ তাদের সংক্রমণের বিষয়ে অবগত ছিলেন। এছাড়া মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা সেবা পাচ্ছিলেন। অথচ বিশ্বব্যাপী এই চিকিৎসা গ্রহণের গড় হার ৭৮ শতাংশ।
ফিজির জাতীয় এইচআইভি রেসপন্স টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল জানিয়েছেন, এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফিজির অন্তত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লাগবে। কোভিড মহামারির মতো এটি দুই বছরে নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসা নেওয়া থেকে দূরে থাকা আক্রান্তদের কারণে দেশটির হাসপাতাল ও বহির্বিভাগগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
ফিজির এই জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএনএইডস। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেন, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে পৃথিবী থেকে এইডস এখনও শেষ হয়ে যায়নি এবং যেকোনো দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা কতটা জরুরি।
সূত্র: বিবিসি