পাঁচ লাখ টাকা ও দুই বিঘা জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে নিজ ছেলে ও পুত্রবধূ। শুধু তাই নয়, আশ্রয়দাতা ভাই, ভাতিজি এবং ঘটনার প্রতিবাদ করায় মামাদের নামেও দেওয়া হচ্ছে একের পর এক মিথ্যা মামলা।
যশোরের সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে বৃদ্ধ আতর আলী ও তার স্ত্রী খয়েরি বেগম এখন অন্যের জায়গায় অন্ধকার ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনায়েতপুর গ্রামের আতর আলী একসময় সম্ভ্রান্ত পরিবারের গৃহকর্তা ছিলেন। তার নিজস্ব বাড়ি ও কৃষিজমি রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে ছেলে জামাত আলী ও পুত্রবধূ সেলিনা জামাতের। তারা আতর আলীর কাছে ৫ লাখ টাকা ও দুই বিঘা জমি দাবি করে। তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে আতর আলী তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয়নি ছেলে ও পুত্রবধূ। সেলিনা জামাত তার শ্বশুর-শাশুড়িসহ আশ্রয়দাতা দেবর ও তার মেয়ের নামে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আতর আলীর ছোট ভাই অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ও আমার মেয়ের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তারা বড় ভাইকে জায়গা বা খেতে দিতে নিষেধ করছে। পথেঘাটে ধরে গালিগালাজ করছে এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে না দিলে আরও মামলার ভয় দেখাচ্ছে।’
প্রতিবেশী মনছের আলী জানান, ভাইয়ের বাড়িতে একটি কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিয়েছেন আতর আলী দম্পতি। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বললে তারা জানান, ছেলের বউয়ের ভয়ে কেউ বিদ্যুৎ দিতে সাহস পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ দিলে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে গেছে সেলিনা। ফলে বাধ্য হয়ে অন্ধকারেই দিন কাটছে এই বৃদ্ধ দম্পতির।
এদিকে, ভাগ্নের এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ করায় মামা তাইজেল ইসলামের নামেও দেওয়া হয়েছে চাঁদাবাজির মামলা। তাইজেল ইসলাম বলেন, ‘ভাগ্নে বিদেশে থাকার সময় তার স্ত্রী আমার বোন-ভগ্নিপতিকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কয়েকদিন আগে ভগ্নিপতি এসে জানায়, এই ঘটনার সুরাহা না হলে তারা দুজন আত্মহত্যা করবে। এরপর আমি ভাগ্নেকে ফোন করে পারিবারিকভাবে বসে মীমাংসা করার কথা বলি। এর দুই দিন পরই সে উল্টো আমার নামে একটি মিথ্যা মামলা করে দেয়।’
জানা গেছে, এসব সাজানো মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তারা কয়েক গ্রাম দূরের বাসিন্দা এবং ঘটনার বিন্দুবিসর্গও জানেন না। ডাকাতিয়া গ্রামের সাক্ষী মিন্টু ও রফিকুল ইসলাম জানান, জামাত আলী ও তার স্ত্রী তাদের ভুল বুঝিয়ে সাক্ষী বানিয়েছে। পারিবারিক এই বিরোধের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় এখন তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আতর আলীর স্ত্রী খয়েরি বেগম বলেন, ‘ছেলে ও ছেলের বউ আমাদের খেতে দেয় না। টাকা আর জমি না দেওয়ায় বাড়ি থেকে বের করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমরা এখন অন্যের জমিতে বসবাস করছি।’
নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বৃদ্ধ আতর আলী বলেন, ‘আমি নিজে ঠিকমতো চলতে পারি না। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি আত্মীয়-স্বজনদের জানালে তাদের নামেও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে ছেলে ও ছেলের বউ।’
জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজ সন্তানের এমন নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে এই বৃদ্ধ দম্পতি এখন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
ডিবিসি/এমএনকে